নারায়ণগঞ্জ-মু্ন্সিগঞ্জ নৌপথে লঞ্চের পরিবর্তে সি-ট্রাক চালু
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় এ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ৩ দিন পর এ নৌপথে যাত্রী চলাচল শুরু হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চের পরিবর্তে চালু করা হয়েছে সি-ট্রাক।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ নৌপথে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে 'এসটি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত' সি-ট্রাক যাত্রা করে।
সি-ট্রাকের ক্যাপ্টেন নূর হোসেন সুমন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিআইডব্লিউটিসির নির্দেশে এ পথে সি-ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। এই সি-ট্রাকে যাত্রী ধারণক্ষমতা ২০০ জন। যাত্রী প্রতি ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০ টাকা।'
সি-ট্রাকে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ যাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'এটা সমুদ্রে চলাচলের উপযোগী। তাই ঝুঁকি অনেক কম এবং যাত্রীদের জন্য অনেক নিরাপদ।'
ক্যাপ্টেন নূর হোসেন জানান, এই সি-ট্রাক আগে বগুড়া-জামালপুর নৌপথে চলাচল করত। তবে নদীর নাব্যতা কম থাকায় পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সি-ট্রাকটিতে ২টি ইঞ্জিন আছে এবং এটি পরিচালনায় ৯ জন কর্মকর্তা আছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ছোট লঞ্চের পরিবর্তে সি-ট্রাক চালু হওয়ায় যাত্রীরা খুশি। তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং নৌপথে চলাচল আরও নিরাপদ হবে বলে মনে করছেন।
মুন্সিগঞ্জের শিকদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ শিকদার এ নৌপথে নিয়মিত যাতায়াত করেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি নিয়মিত লঞ্চে যাতায়াত করি। আগের লঞ্চগুলো হেলেদুলে চলত। সেখানে এটা নিরাপদ। ভাড়া ৪০ টাকা হলে ঠিক আছে। আধা ঘণ্টার পরিবর্তে ১ ঘণ্টা হলেও সমস্যা হবে না। তবে এর বেশি সময় লাগলে যাত্রীরা যেতে চাইবে না।'
আরেক যাত্রী মো. হাসান বলেন, 'আগের লঞ্চগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কোনো বড় লঞ্চ বা জাহাজ গেলে নদীর ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হতো। সেখানে এটা নিরাপদ। তাছাড়া নিরাপদ হলে এক ঘণ্টা পর পর ছাড়লেও কোনো সমস্যা হবে না।'
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিআইডব্লিউটিএর সিস্টার অর্গানাইজেশন বিআইডব্লিউটিসি। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক চালু করা হচ্ছে। আজকে ১টি সি-ট্রাক দিয়ে পরীক্ষামূলক চালু করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করবে। যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী এর সংখ্যা বাড়ানো হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আজকে মুন্সিগঞ্জ নৌপথে চলাচল শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে অন্য সবগুলো নৌপথেও সি-ট্রাক চালু হবে।'
বিআইডব্লিউটিএর এই কর্মকর্তা বলেন, 'এ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্যই সি-ট্রাক চালু করা হচ্ছে। সি-ট্রাক লঞ্চের তুলনায় নিরাপদ। লঞ্চমালিকরা অধিক মুনাফার জন্য লঞ্চগুলো পরিবর্তন করছে না। আশা করি তারা এবার বড় লঞ্চ চালু করবে।'
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জোনের প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই সি-ট্রাক ১ সপ্তাহের বেশি চলতে পারবে না। কারণ এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২০০ জন। এর জন্য ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বসে থাকতে হবে যাত্রী ফুল হওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা যখন লঞ্চ চালিয়েছি তখন ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে আধা ঘণ্টা পরপর ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে গিয়েছে। এ যাত্রীরা এক দেড় ঘণ্টা বসে থাকবে না।'
তিনি বলেন, 'সি-ট্রাক চলাচলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলাও করব না। তবে আমরা ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর থেকে মুন্সিগঞ্জ ও অন্যান্য নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছি।'
'লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলে প্রায় ১ হাজার মালিক ও শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তাই শিগগির লঞ্চ চলাচলের জন্য আবেদন জানাচ্ছি,' যোগ করেন তিনি।
নতুন বড় লঞ্চের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাছাড়া এ নৌপথে এতো যাত্রী হয় না যে বড় লঞ্চ চালু করব। বড় লঞ্চ চালু করলে লোকশান হবে।'
লঞ্চ মালিক-শ্রমিক বেকার হওয়ার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল বলেন, 'এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এটা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।'