দুই দিনে হারার শঙ্কা থেকে ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান
এজবাস্টনে দুই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানের। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই কোনো রান না করে দুই উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন শান মাসুদ ও আজান আওয়াইস। দুজনের অর্ধশতকে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ইংল্যান্ডের জয়ের অপেক্ষা অন্তত কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে।
শুক্রবার মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১৮৪ রান করেছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৪৫৩ রানের জবাবে এখনো ১৩৬ রানে পিছিয়ে তারা। তবে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম।
বৃহস্পতিবার কোনো রান না করেই দুই উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের ইনিংসকে টেনে তোলেন আজান ও মাসুদ। বৃষ্টির কারণে খেলা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দৃঢ় ব্যাটিংও ইংল্যান্ডকে দ্রুত জয় থেকে দূরে রেখেছে। শুক্রবার বার্মিংহামের ধূসর আকাশের নিচে তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১২৫ রান।
শেষ পর্যন্ত স্পিনার ড্যান লরেন্সের বলে উইকেটের পেছনে জর্ডান কক্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামেন আজান। লেগ সাইডে খেলা বলটি ব্যাটের কানা ছুঁয়ে কক্সের হাতে যায়। আম্পায়ার শুরুতে তাঁকে আউট দেননি। পরে ইংল্যান্ড রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ৫৯ রান করে ফিরতে হয় আজানকে।
এরপর মাসুদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বাবর। সাবলীল ব্যাটিংয়ে মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত ২৬ রানে অপরাজিত আছেন সাবেক অধিনায়ক। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক মাসুদ অপরাজিত ৮৩ রানে। ফলে পাকিস্তানের সামনে এখন লিডের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি ম্যাচ বাঁচানোরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অবশ্য ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তানের অবস্থাটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। প্রথম দিনেই তাদের ১৩৩ রানে অলআউট করে দেয় ইংল্যান্ড। এরপর দ্রুতগতিতে ব্যাটিং করে ৪৫৩ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ইংল্যান্ডের হাতে, জয়ের সম্ভাবনাও অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
তিন ম্যাচের সিরিজে এরই মধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারানোর পর দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেয়েছে ১৯৪ রানে। ফলে এজবাস্টনে সিরিজের শেষ ম্যাচেও ইংল্যান্ডের লক্ষ্য পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা।
অন্যদিকে পাকিস্তানের এই সফরজুড়ে চলছে একের পর এক সংকট। এজবাস্টন টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিয়েছে তারা। দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর এজবাস্টনে একাদশে আনা হয়েছে চার পরিবর্তন।
ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের এই দুঃস্বপ্নের অধ্যায়ও শেষ হতে যাচ্ছে। ২১ টেস্টে এটি হতে যাচ্ছে তাদের ১৬তম হার। তবে এজবাস্টনে অন্তত সেই হারের ব্যবধানটা বড় না করার লড়াইয়ে এখনো টিকে আছেন মাসুদ-বাবররা।