‘আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে সাংবাদিকের কাছে জবাবদিহি করবো না’

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর

'প্রতীক বরাদ্দের আগে ভোট চাইলে সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি ভঙ্গ হবে না' বলে দাবি করে সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে সাংবাদিকের কাছে জবাবদিহি করবো না। জবাবদিহি করতে হলে নির্বাচন কমিশনের কাছে করবো।'

আজ রোববার ভোররাতে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে এ কথা বলেন।

এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে নাটোর শহরের কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে বিজয় দিবসের র‍্যালি শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস আবারও নির্বাচনবিধি ভঙ্গ করে নাটোর পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে জোতাতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

সমাবেশে সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'সিংড়া নলডাঙ্গায় ইউনিয়ন নির্বাচন হবে ৫ জানুয়ারি, নাটোর পৌরসভার নির্বাচন হবে ১৬ জানুয়ারি। অন্য কোথায় কী হবে আমি জানি না, নেত্রী আমাকে বলেছেন জলিকে আমি পুনরায় মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।'

তিনি আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগের নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাদের অনুরোধ করবো প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকায়, জলির নৌকায় উঠে তাকে জয়লাভ করানোর চেষ্টা করেন।'

'মুখে বলবেন জয়বাংলা, মুখে বলবেন আওয়ামী লীগ, ভিতরে বলবেন জিন্দাবাদ চলবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার খুব কঠোর সিদ্ধান্ত নেবেন,' যোগ করেন তিনি।

প্রায় ১২ মিনিটের বক্তব্যে সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস দলীয় নেতাকর্মীদের টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি না করাও নির্দেশনা দেন।

সমাবেশে আব্দুল কুদ্দুস আরও বলেন, 'আমাদের মেয়র উমা চৌধুরী জলির বিষয়টা হৃদয়ে ধারণ করে আজ থেকে তার জন্য আপনারা কাজ শুরু করবেন। তাকে জেতাতেই হবে।'

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর পৌরসভার মেয়র নির্বাচন উপলক্ষে পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-নওগাঁ মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রত্না আহমেদ নির্বাচনবিধি ভঙ্গ করে নৌকার পক্ষে ভোট চান।

ওইদিন প্রশাসনকে হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস।

সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নাটোর পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আছলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস মহোদয়ের বক্তব্য নজরে এসেছে। তিনি নির্বাচনবিধি ভঙ্গ করে ভোট চেয়েছন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হবে।'

আগেও এমন আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে তিনি বলেন, '৩ সংসদ সদস্যের আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। তার নির্দেশনায় সংসদ সদস্যদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হবে।'

সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মৌখিকভাবে জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করে রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এমন ঘটনা আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে কমিশনে কথা বলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'