ঝিকরগাছা ইউপি নির্বাচন: পৃথক সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেনাপোল

যশোরের ঝিকরগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণার সময় বৃহস্পতিবার রাতে ৪ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ৬ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, শিমুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক (৭০), ইউনিয়ন আ. লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক আবু সাইদ (৬০), মাহবুব (৫০), সিরাজুল ইসলাম (৫৮), মিলন হোসেন (২৯) ও হাসেম আলী (৫৪)।

আহত স্বতন্ত্রপ্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় উপজেলার মিশনপাড়ায় যান। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান সরদারের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তাকে ও তার কর্মী আবু সাঈদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযুক্ত আ. লীগ মনোনীত চেয়ারম্যানপ্রার্থী মতিয়ার রহমান সরদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার সমর্থকরা কোনো হামলা করেনি। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে অযাচিতভাবে আমাকে ও আমার সমর্থকদের দায়ী করা হচ্ছে।'

এছাড়া, পানিসারা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী পিকুল হোসেন নির্বাচনী প্রচারণায় বেজিয়াতলা বাজারে গেলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী নওশের আলীর সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে দু'পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী নওশের আলীর মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার মুরছালিন রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ গতকাল রাতে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ২ পক্ষ মুখোমুখি হলে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে, কোনো গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়নি।  কোনো পক্ষ মামলা করেনি।