নোয়াখালীতে কারাগারে থেকে বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমানউল্যাপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মো. বাহারুল আলম সুমন কারগারে থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের পরিষদ নির্বাচনে তিনি ২১৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি ওই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রাহাত তানভীর চৌধুরী বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, 'আমানউল্যাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করেন। এর মধ্যে মো. বাহারুল আলম ৩ হাজার ১০৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হুদা পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯১ ভোট। অপরদিকে নৌকার প্রার্থী আরিফুর রহমান মাহমুদ ১ হাজার ৭০৫ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে আছেন। '
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার মামলায় গত ১৫দিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। এরপর আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে অনুসারীরা তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যান। এরপর আদালতে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান বলেন, 'বিএনপি দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তবে কোথাও কোথাও বিএনপির নেতা কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। বেগমগঞ্জ উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে মো: বাহারুল আলম সুমনকে নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। এরপরও তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। সুমনের বিজয় প্রমাণ করে মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৩২টি কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ব্যালোট পেপার ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন ও নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ১৮টি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান পদে ১৪টি ইউনিয়নে ৬৮ জন প্রতিদ্বন্দিতা করেন এবং ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে ৪৯০জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ৬ জন, বিদ্রোহী প্রার্থী ৪ জন ও বিএনপি সমর্থিত ৩ জন প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও একটি ইউনিয়নে জাসদ সমর্থিত এক প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।