প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনেই ধামরাইয়ের ৪ ইউনিয়নে সহিংসতা
ঢাকার ধামরাইয়ে ইউপি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনেই ৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর ও পোস্টার ছেঁড়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে ৪ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের তোলা এসব অভিযোগ নৌকার প্রার্থীরা অস্বীকার করেছেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় উপজেলার রোয়াইল, সোমভাগ, বালিয়া ও গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমভাগ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রভাষক মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল বানেশ্বর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন তিনি। মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নৌকার প্রার্থী আজাহার চেয়ারম্যানের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় আওলাদ হোসেন, তার ভাই বাবু, সাইফুল, সুরুজসহ ১০-১২ জন কর্মী আহত হন। পরে তারা ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে দাবি করেন আওলাদ।
তিনি বলেন, 'আমি এ ঘটনায় নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেছি।'
তবে নৌকা মনোনীত প্রার্থী আজাহার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, 'একটা মারামারির ঘটনা ঘটছে। আওলাদ হোসেনের লোকজন আমার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে।'
রোয়াইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম সামসুদ্দিন মিন্টুর বলেন, 'বিকেলে নৌকার সমর্থকরা মোটরসাইকেল নিয়ে আমার অফিসের সামনে হামলা করেছে। পিস্তল দিয়ে ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে চলে গেছে। ওরা মূলত চাচ্ছিল, আমরা প্রতিবাদ করি। প্রতিবাদ করলেই বড় সংঘর্ষ হতো। আমি রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেবো।'
তবে রোয়াইল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন খান বলেন, 'বিষয়টা আমি জানিও না। আমার বিশ্বাস, আমার সমর্থকরা এই ধরনের কাজ করবে না।'
বালিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরে আলম নান্নুর কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, বিকেলে তার ৪ কর্মী প্রচার চালিয়ে বালিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে প্রায় ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলে করে আসা নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুর রহমানের লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ৪ কর্মীকেই বেধড়ক মারধর করে তারা। পরে আহতদের মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, 'শুনেছি একটু মারামারি হয়েছে। আমি জানি না।'
এ ছাড়[, গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের গান্ধুলিয়া গ্রামে পোস্টার লাগানোর সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান বলেন, 'সন্ধ্যার দিকে আমার কর্মী জাকির হোসেন গান্ধুলিয়া গ্রামে পোস্টার লাগাতে গিয়েছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লার ভাতিজা আবুল কাশেম কাশি তাকে বাধা দেন। জাকির প্রতিবাদ জানালে তাকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দেবো।'
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দিন বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।'
তবে অভিযোগের বিষয়ে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে রাতে ধামরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি । অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'