বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, গুলি, ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চতুর্থ দফার ইউপি নির্বাচন

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে দেশের ৮৩৬টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের দ্বারা কেন্দ্র দখলের পাশাপাশি প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

রোববার সকাল ৮টায় এসব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটানা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ১ কোটি ৬২ লাখ ভোটারের এসব ইউপির মধ্যে ৭৯৮টিতে ব্যালট পেপারে এবং ৩৮টিতে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের ঝাড়গাঁও রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে 'নৌকা' প্রতীকের একদল সমর্থক ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় পুলিশ ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ কারণে পরে প্রায় আধা ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।

thakurgaon
ছবি: সংগৃহীত

এই  কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অফিসার মোবাইল ফোনে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধিকে জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে একদল নৌকার সমর্থক ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আখানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক কাবুল হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৫ নম্বর ইউনিয়নের শালধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি ১০/১৫টি ককটেল ফাটিয়ে কেন্দ্র দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম নামের এক ভোটার আহত হন।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রাশেদুল হক খান জানান, হামলাকারীদের পুলিশ নিবৃত্ত করতে চাইলে তারা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ফলে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর চর পুখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ঘণ্টাখানেকের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর একজন এজেন্টের কাছে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নাম লেখা টাকার খাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মনিয়ন্দ উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অলোক কুমার চক্রবর্তীকে প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত এজেন্টকে কারাদণ্ড ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সকাল ১০টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ওই কেন্দ্রে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বলে নিশ্চিত করেন আখাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার।

এর আগে নির্বাচনী বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় বিভিন্ন প্রার্থীর ১৩ জন পোলিং এজেন্টকে আটক করে পুলিশ।

সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্য চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হোয়াই অং প্রু মারমা দ্য ডেইলি স্টারকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নে ১০৫ নং বঙ্গবন্ধু পূর্ব পুনবার্সন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের প্রকাশ্যে সিল দিতে বাধ্য করার অভিযোগ করেন ভোটাররা। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে, মুন্সিগঞ্জের সিরজাদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের খাসকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিরাগতরা ভোটকেন্দ্রে ঢুকে জোর করে নৌকায় সিল দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কেন্দ্রের নৌকার এজেন্ট মো. আকতার হোসেন। নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন বহিরাগতদের দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল দিয়েছেন এমন অভিযোগ আকতার হোসেনের।

সকাল সাড়ে ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায়  পুলিশ সদস্যদের ওপর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বহিরাগতরা।

মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ভোট হয়।

চতুর্থ ধাপের ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২৯৫ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ৪৮ জন, সংরক্ষিত সদস্য ১১২ জন ও সাধারণ সদস্যা ১৩৫ জন।

এ ধাপের ভোটের লড়াইয়ে আছেন ৪৩ হাজার ৪৩৩ জন প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান ৩ হাজার ৮১৪ জন, সংরক্ষিত সদস্য ৯ হাজার ৫১৩ জন ও সাধারণ সদস্য ৩০ হাজার ১০৬ জন।