শরীয়তপুরে ২ প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০
শরীয়তপুর সদরের ডোমসার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
আজ রোববার দুপুরে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেতুলিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শরিয়তপুর সদর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, '১১ নভেম্বর ২য় ধাপে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে মোরগ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন আজগর আলী খান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল তালা প্রতীকের আব্দুল মতিন ছৈয়াল। আজগর আলী খান রোববার সকালে তার সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় নির্বাচনী আনন্দ মিছিল বের করেন। সেসময় পরাজিত সদস্য প্রার্থী মতিন ছৈয়ালের সমর্থকরা মিছিলে বাধা দিলে দুদলের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। দুপক্ষ রোববার বেলা ১১টার দিকে চিতলিয়া এলাকায় দেশি অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে শুরু করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।'
তিনি আরও জানান, দুপুর ২টার দিকে চিতলিয়া ইটভাটার কাছে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেসময় রামদা, কোচ, টেটা, বল্লম, বটি, ঢাল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের আনুমানিক ৩০ জন আহত হন এবং অন্তত শতাধিক ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
আহতদের মধ্যে ৩ জনের শরীরে শটগানের গুলি লেগেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
সংঘর্ষে আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি মো. আক্তার হোসেন আরও বলেন, 'এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের কেউ কোনো অভিযোগ কিংবা কোনো ধরনের মামলা করেননি। যদি কেউ কোনো অভিযোগ অথবা মামলা করেন আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।'
সংঘর্ষের ২ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আজ সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি স্টারের হাতে এসে পৌঁছেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, লাল বালতিতে করে কয়েকজন ককটেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ রামদা হাতে ঘুরছেন, কারো হাতে বল্লম, কারো হাতের টেটা এবং কারো হাতে দেশীয় মাছ মারার কোচ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান ছৈয়াল মুঠোফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজগর খান বিজয়ী হয়েই আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আমার সমর্থকদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। তার ভয়ে সমর্থকদের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন।'
জানতে চাইলে আজগর আলী খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্বাচন চলাকালীন তারা আমার সমর্থকদের মারধর করেছে। এখন নির্বাচনে শেষ, কিন্তু আমাদের এলাকায় যেতে দিচ্ছিল না। তাই জনসাধারণ ক্ষুব্দ হয়ে জড়ো হয়েছিল। তারা সেখানে হামলা করেছে। আমার সমর্থকদের মধ্যে যারা আহত হয়েছে তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আনা হলে মতিউর রহমান ছৈয়ালের সমর্থকেরা তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়।'