নোয়াখালীতে বাসের টিকিট প্রতি ২০০-২৫০ টাকা বাড়তি আদায়ের অভিযোগ
নোয়াখালীতে অতিরিক্ত বাসভাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা। নোয়াখালী জেলার ৯টি উপজেলা ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নোয়াখালীর ওপর দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রীরা জানান, বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিকরা ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে সুযোগ বুঝে যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে গত শনিবার থেকে নোয়াখালীর ৯টি উপজেলা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মক্ষেত্রে ছুটতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। শুক্রবার ভোর থেকে বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এই সুযোগে বাস কাউন্টারগুলো প্রতি টিকেটে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, নোয়াখালীগামী বাস কর্তৃপক্ষ ঈদের আগেও ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছিল। কিন্তু সেসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাস ও পরিবহন মালিক সমিতি এই দফায়ও প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগঞ্জ-চাটখিল-ঢাকা সড়কে হিমালয় এক্সপ্রেস লি. ও আলবারাকা এসি-ননএসি পরিবহনগুলো ঈদের ৮ দিন আগে থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে ৩৫০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আদায় করেছে।
আজ রোববার সকালে হিমালয় ও আলবারাকা, রয়েল কোচ একুশে, লাল সবুজ, ইকোনো পরিবহন ও ঢাকা এক্সপ্রেস কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, জন প্রতি নন-এসি বাস ভাড়া ৩৫০ টাকার পরিবর্তে থেকে ৫৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং এসি বাসের ভাড়া ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
আজ রোববার বিকেলে নোয়াখালীর সোনাপুর-ঢাকা সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বিলাসবহুল চেয়ার কোচ হিমাচল, একুশে পরিবহন ও লাল সবুজ বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একুশে ও হিমাচল পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি কোচ) বাসগুলো প্রতি টিকেটে ২০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সাধারণ চেয়ার কোচেও ৩৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর থেকে চৌমুহনী চৌরাস্তা-সোনাইমুড়ী সড়কের ওপর দিয়ে ঢাকা সড়কে চলাচলকারী এসি পরিবহন রয়েল কোচ ৫০০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা, একুশে এসি কোচে ৫০০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা, ঢাকা এক্সপ্রেস ৩০০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা, ইকোনো বাস ৩৫০ টাকার ভাড়া ৫৫০ টাকা করে জনপ্রতি আদায় করছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামগামী বলাকা, নিলাচল, শাহী, জোনাকী, বাঁধন, রেসালাহ পরিবহনে ২৫০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। শাহী এসি পরিবহনে প্রতি টিকেট ৬০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিবহনের ৭ জন টিকেট বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্য ডেইলি স্টারকে তারা বলেন, 'যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পর খালি গাড়ি নোয়াখালী ফিরে আসে। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটু বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।'
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নোয়াখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অনেকেই আমাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট (এডিএম) কে ভ্রাম্যমান আদালত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।'