পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগায়, নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছিল: নৌ প্রতিমন্ত্রী
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, 'গত বর্ষায় পদ্মা সেতুর পিলারে যখন ফেরির ধাক্কা লেগেছিল, তখন সমগ্র বাংলাদেশ কেপে উঠেছিল। আমি খুব অপরাধী হয়ে গিয়েছিলাম।'
রোববার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, একটি ধাক্কা সমগ্র মানুষকে একত্রিত করে দিয়েছে। এমনকি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হৃদয়েও ধাক্কা লেগেছিল। তিনিও এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন।'
তিনি বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন জেলের বাইরে ছিলেন তখন বলেছিলেন, কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না। পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে তৈরি, কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। খালেদা জিয়া যে বিভ্রান্তমূলক কথা বলেছিলেন, সেটাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।'
পদ্মা সেতুকে সাহস ও মর্যাদার স্থাপনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আজকে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুর ব্যাপারে অনুতপ্ত। সংসদে পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজী হননি। তিনি বলেছিলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে এত বেশি ষড়যন্ত্র হয়েছে যে এর নাম পরিবর্তন করা যাবে না। পৃথিবীর সব মানুষ পদ্মা সেতুর নাম জানে। বিশ্ব ব্যাংকসহ ড. ইউনুস পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। সে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি, এ সেতুর নাম পদ্মাই থাকবে। কারণ এর মধ্যে আমাদের মর্যাদা লুকিয়ে আছে।'
প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, আমরা করোনার থেকেও বেশি শক্তিশালী। এ কথা বলার পর অনেকেই হেসেছিল। আজ যারা হেসেছিল তাদের অবস্থা কী? বাংলাদেশ থেকে করোনার বিধিনিষেধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মানে করোনাকে জয় করতে পেরেছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের মানুষ করোনাকে জয় করেছে।'
এর আগে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বেইজ এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্নজীবনীর ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি।

