পর্যটকে মুখরিত কুয়াকাটা, ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্তির হাসি

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

ঈদের চতুর্থ দিনেও লক্ষাধিক পর্যটকের পদভারে মুখরিত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। ঈদের দিন সকাল থেকে পর্যটকের আগমনে মুখরিত কুয়াকাটার ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতসহ লেম্বুর বন, গঙ্গামতির চর, চর বিজয়, বাউলি বন, টেংরাগিরি, ফাতরার বন, তিন নদীর মোহনা, শ্রীমঙ্গল ও সীমা বৌদ্ধ মন্দির, মিশ্রীপাড়া রাখাইন পল্লী, রাখাইন মার্কেট, শুঁটকি পল্লী, শুঁটকি মার্কেট, মৎস্য বন্দর, ঝাউবাগান, ইকোপার্কসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থান।

kuakata1.jpg
পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। ছবি: সোহরাব হোসেন/স্টার

করোনাকালের ২ বছর পর পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে প্রশান্তির হাসি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের বরণে ঈদের আগেই আলোকসজ্জাসহ নানা সাজে সজ্জিত হয়েছে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-কটেজ, ঝিনুক মার্কেট, রাখাইন মার্কেট, তাঁতের দোকান, এন্টিক গহনার দোকান, শুঁটকি মার্কেট, খাবার হোটেল, নৌকা মিউজিয়াম, ফিশফ্রাই পল্লীসহ সব দর্শনীয় স্থানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সৈকতে বসেছে মুখরোচক নানা খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকানের পসরা।

সৈকতে নিয়মিত ফুচকা-চটপটি বিক্রেতা আলামিন হোসেন বলেন, 'গত ২ বছর ব্যবসা বন্ধ ছিল। রোজার মাসে কোনো পর্যটকই ছিল না। খুব কষ্টে দিন কেটেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে। এখন খুবই ভালো বিক্রি হচ্ছে।'

kuakata3.jpg
কুয়াকাটা সৈকত। স্টার ফাইল ফটো

মুখরোচক আচার বিক্রেতা আবুল বলেন, 'এবার বিক্রি ভালো। আশা করছি ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।'

রাখাইন তরুণী মায়া রাখাইন বলেন, 'ধার-দেনা আর ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়ে ওঠা পর্যটক নির্ভর রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত পণ্যের বিশাল মার্কেটটি হুমকির মুখে পড়েছিল। এবার পর্যটকদের আগমনে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।' 

কুয়াকাটা টুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর বলেন, 'পর্যটকদের বেশ চাপ বেড়েছে। মৌসুম বিবেচনায় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে আন্ধারমানিক নদীর মোহনা থেকে পর্যটক নিয়ে নদী পথে সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল ফাতরার বন ভ্রমণ করানো হচ্ছে।'

kuakata4.jpg
ঈদের বন্ধসহ সরকারি নিয়মিত বন্ধ মিলিয়ে মোট ৯ দিনের ছুটির কারণে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ছবি: সোহরাব হোসেন/স্টার

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, 'ঈদের বন্ধসহ সরকারি নিয়মিত বন্ধ মিলিয়ে মোট ৯ দিনের ছুটির কারণে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ব্যবসায়ীরা করোনাকালের ক্ষতি পোষাতে পারছে।'

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন কুটুমের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, 'অনেক পর্যটক হোটেলের রুম পায়নি। তাদের আন্তরিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।'

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, 'পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণসহ সার্বিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'