ফরিদপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৮
ফরিদপুরে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৮ জন ডায়রিয়া রোগী।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে হঠাৎ করে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ৭ দিতে এ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১২৬ জন। ১ মাস আগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৫৩ জন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগী ও স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ১৬। কিন্তু, রোগী ভর্তি আছেন ৩১ জন। অনেক রোগী বারান্দায় এবং কাউকে কাউকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক ও সেবিকারা রোগীদের পরিচর্যা করা, স্যালাইন দেওয়াসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বিলকিস বেগম (২৩) নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মা সায়েরুন বেগম। বিলকিস বেগম ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার বাসিন্দা ইজিবাইক চালক ফরহাদ শেখের স্ত্রী।
সায়েরুন বেগম জানান, গত শুক্রবার পেয়াজু, ছোলা, বড়া, দুধ খায় বিলকিস। রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিলকিসকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি সাবিনা (১৮) চিকিৎসাধীন আছেন।
সাবিনার স্বজন ফিরোজ ফকির বলেন, '২ দিন আগে মাদ্রাসায় অসুস্থ হয়ে পড়ে আমার মেয়ে। পরে তাকে জেনারেল হাসপাতালে আনি।
ডায়রিয়া ওযার্ডের দায়িত্বরত সেবিকা গোলাপী বেগম বলেন, 'গত শুক্রবার থেকে হঠাৎ করে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেড়ে গেছে। শুক্রবার সকালে ১১ জন ভর্তি ছিল এই ওয়ার্ডে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় নতুন রোগী আসছে আবার সুস্থ হয়ে ফিরেও যাচ্ছেন।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানে এ হাসপাতালে ৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন।'
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা গণেশ কুমার আগরওয়ালা বলেন, 'ফরিদপুরে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার আক্রান্তর হার বেড়ে গেছে। এ সময় বিশেষত গরমের কারণে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে ডায়রিয়ার আক্রান্ত হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'বেশি করে পানি পান করলে এবং ভাজা-পোড়া খাবার এড়িয়ে গেলে ডায়রিয়া থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।'