ফের সংস্কার করা হবে মেয়াদোত্তীর্ণ কালুরঘাট সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

মেয়াদোত্তীর্ণ কালুরঘাট সেতু আবারও সংস্কার করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৬ মার্চ সেতুর রোডের কার্পেটিংয়ের কাজ করা হবে। সেদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা সেতুর উপর যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'সেতুর সড়কে বেশ কিছু গর্ত হয়েছে। এগুলো ভরাট করে যান চলাচল উপযোগী করতে আগামী ১৬ মার্চ রাত ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।' 

এ রেলওয়ে কাম সড়ক সেতুটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে। নানা ইতিহাসের সাক্ষী এবং উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামকে সংযুক্তকারী এ সেতুকে ২০০১ সালেই 'ঝুঁকিপূর্ণ' বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এরপরও সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করছে ট্রেন থেকে শুরু করে সব ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন। এই সেতু ব্যবহার করেই ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ভারি ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নকশা ও অর্থায়নে জটিলতাসহ নানা কারণে নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্প শিগগির শুরু হচ্ছে না। তাই নির্মাণাধীন দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যথাসময়ে ট্রেন চালু করতে পুরনো কালুরঘাট সেতুর উপরই আস্থা রাখতে হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোনো কালুরঘাট সেতুর উপর দিয়ে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে যে সব ট্রেন যাতায়াত করছে, সেগুলোর এক্সেল লোড ১০ টনের কাছাকাছি। ট্রেনগুলোর ইঞ্জিনের আকারও ছোট। সেতু পারাপারের সময় এসব ট্রেনের গতি থাকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার।

কালুরঘাট সেতুর বর্তমান দৈর্ঘ্য ৬৩৮ মিটার। এর স্প্যান সংখ্যা ১৯। ১৯৩১ সালে এটি ট্রেন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পরে ১৯৬২ সালে এর উপর ইস্পাতের পাটাতন ও বিটুমিন ব্যবহার করে এটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উপযোগী করা হয়।

এরপর বেশ কয়েক দফায় জরাজীর্ণ সেতুটির মেরামত হয়েছে। কিন্তু এটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণই রয়ে গেছে।