‘বাবায় আমার বাড়িতে আইলো ঠিকই তয়, নিথর দেহ লইয়া আইলো’
ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে বাংলাদেশি জাহাজ 'বাংলার সমৃদ্ধি'তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হাদিসুরের মরদেহ ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছালে হাদিসুরের ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে হাদিসুরের গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদের কদমতলার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছেন হাদিসুরের চাচা বেতাগী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান।
দুপুর ৩টায় হাদিসুরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাড়া-প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনরা এসেছেন শেষবারের মতো হাদিসুরকে দেখতে। বাবা-মা, ভাই-বোনদের মধ্যে কান্নার রোল।
হাদিসুরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'বাবায় আমার বাড়িতে আইল ঠিকই তয়, নিথর দেহ লইয়া আইলো।'
মা আমেনা বেগম বলেন, 'এখন কে আর আমার খবর লইবে, আমার সবই শেষ।'
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদীর কবরের পাশে হাদিসুরকে দাফন করা হবে বলে জানান তার চাচা মাকসুদুর রহমান ফোরকান।
হাদিসুর ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরের একটি জাহাজে নৌ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৭ সাল 'এমভি বাংলার সমৃদ্ধি' জাহাজে যোগ দেন হাদিসুর, বলেন তিনি।
গত ২ মার্চ জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন হাদিসুর। ওই জাহাজের অপর ২৮ জন ক্রু গত ৯ মার্চ দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান।