বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: র‌্যাবের চেয়ে এগিয়ে পুলিশ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক সমীক্ষায় জানা গেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে র‍্যাবের চেয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা বেশি।

বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা ও গণমাধ্যম সমীক্ষার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান সিজিএস ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি গতকাল শনিবার 'এক্সিকিউশন অ্যাট উইল?' শিরোনামে একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ সমীক্ষা থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, 'পুলিশ এবং ডিবি (গোয়েন্দা বিভাগ) গত ৩ বছরে এ ধরনের বেশির ভাগ ঘটনা, অর্থাৎ প্রায় ৫১ দশমিক ২৪ শতাংশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।'

'২৮ দশমিক ৮ শতাংশ ঘটনার সঙ্গে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন যুক্ত ছিল,' যোগ করেন তিনি।

এই সময়ের মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৫৬২। বাকি ঘটনাগুলোর জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য সংস্থা দায়ী।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানা গেছে, কক্সবাজারে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দেশের অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।

২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলায় ২৩৮টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাকি ৬৩ জেলায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৩৫৩।

সর্বাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দিক দিয়ে পরবর্তী স্থানগুলো দখল করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। এ ২ জেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন যথাক্রমে ৫৮ ও ৩০ জন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়ার পর থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২টি ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, 'অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিধিনিষেধ দেওয়ার পর থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হাত থেকে সাময়িক পরিত্রাণ পাওয়া গেছে। তবে এই সাময়িক বিরতি এ ধরনের কার্যক্রম ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির স্থায়ী সমাধান নয়।'

'সরকারের উচিৎ তাদের প্রতিনিধি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কমিশনের নিয়োগ দেওয়া, যারা গত এক দশকে সংঘটিত প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করবেন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনবেন।'

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতায়ন করতে হবে, যাতে সংস্থাটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে।

বাংলাদেশ হিউমেন রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেনা খান বলেন, 'যখন একটি বন্দুকযুদ্ধ হয়, তখন কেন আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ মারা যান না? কেন ওই এলাকা বা তার আশেপাশের কোনো জায়গায় বন্দুকযুদ্ধের কোনো ধরনের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না?'

শাহদীন মালিক বলেন, 'আমরা কেন তদন্ত করে দেখছি না যে, হত্যা না করে কেন তাদের পায়ে গুলি করা হচ্ছে না?'

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিজিএসের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী।