বিধবার বাড়ির উঠান দখল করে রাস্তা তৈরির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের তত্ত্বীপুর গ্রামের আনোয়ারা বেগমের স্বামী মারা গেছে ১৫ বছর আগে। দুই ছেলে কাজের জন্য বাড়িতে থাকেন না। গ্রামের প্রভাবশালীরা এখন তার বাড়ির উঠান দখল করে তৈরি করছেন রাস্তা।

আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, বাড়ির উঠানে রাস্তা তৈরিতে বাধা দেওয়ায় তাকে ও তার পুত্রবধূকে মারধর করা হয়েছে।

জমি দখল করে রাস্তা তৈরিতে তৎপর আতিয়ার রহমানের দাবি, এটি ২০০ বছরের পুরান রাস্তা। বলরাম, কামাল, শাহাদৎসহ কয়েকজন তাকে রাস্তা তৈরিতে সহায়তা করছেন।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ১০ মার্চ এক রায়ে বলেছেন, সেখানে কোনো সরকারি রাস্তার অস্তিত্ব ছিল না। জায়গাটি আনোয়ারা বেগমের পরিবারের মালিকানাধীন। এর পরও রাস্তা নির্মাণের তৎপরতা থামেনি।

শনিবার সকালে তত্ত্বীপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এর এক পাশে নলকূপ, রান্নাঘর আর অন্যপাশে বসতবাড়ি।

আনোয়ারা বেগম জানান, তারা তাদের জমিতে ঘর তৈরি করছিলেন। হঠাৎ গ্রামের কয়েকজন এ কাজে বাধা দেয়। তাদের একটি গোয়াল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে আদালতে মামলা করা হয়। আদালতের রায়ও পক্ষে এসেছে। এরপরও গত শুক্রবার মাটি ফেলে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বাধা দিলে বলরাম, আতিয়ার, কামাল, শাহাদৎসহ কয়েকজন তাকে ও তার মেয়ে শাহানাজ পারভীনকে মারধর করেন।

শাহনাজ জানান, রাস্তা তৈরির খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে আসেন। রাস্তা তৈরিতে বাধা দেওয়ায় বলরাম ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন।

স্কুল শিক্ষক বলরাম বিশ্বাস মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি তারা আমাদের কাছ থেকেই কিনেছে। মানুষের যাতায়াতের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান খাঁ বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জোর করে রাস্তা নির্মাণ করা একদমই অন্যায়। ওই গ্রামের কিছু প্রভাবশালী মানুষ কাজটি করছেন।

এ বিষয়ে ৮ নম্বর মালিয়াট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফজলুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, জায়গাটি সরকারের নয়। তত্ত্বীপুর গ্রামের আবদুর রহমান ও শহিদুল ইসলামের পরিবার ওই জমির মালিক। কেউ জোর করে সেখানে রাস্তা তৈরি করতে পারে না। এটা অন্যায়। তবে, দুই পক্ষ মিলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া জেরিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। অন্যের জমি দখল করে রাস্তা তৈরি ঠিক না। তারা লিখিতভাবে জানালে আমি ব্যবস্থা নেব।'

কালীগঞ্জ থানার তত্ত্বীপুর ক্যাম্পের এএসআই মশিউর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে দেখেছেন। তবে কাউকে মারধরের বিষয়টি তিনি জানেন না।