বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এবং বিশ্ব কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটাং (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তৃতার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, 'বাংলাদেশে যখন ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, অন্যতম প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী এবং জলবায়ু পরিবর্তন আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী, তখন দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সংলাপ হচ্ছে।'
'আমরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। ইইউ বাংলাদেশের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখাচ্ছে,' যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'উন্নয়নে অর্থায়নের জন্য ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশকে স্বল্পমূল্যে ঋণ দিতে চাইছে।'
উল্লেখ্য ইইউ বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান রপ্তানি বাজার। বাংলাদেশ ইইউ থেকে জিএসপি সুবিধা পেলেও ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের সঙ্গে এ সুবিধা শেষ হবে।
হোয়াইটলি বলেন, 'এ অবস্থায় বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধার আওতায় নিয়ে যেতে ইইউ কাজ করছে।'
পরিবেশ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, শ্রম অধিকারসহ কয়েকটি শর্তের অধীনে এ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে বাড়াতে এখন আরও বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রস্টার বলেন, 'জার্মানি বাংলাদেশকে একটি বিশেষায়িত জলবায়ু উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিচ্ছে। বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের কাছে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।'
বাংলাদেশ ও জার্মানি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জলবায়ু ঝুঁকি কমাতে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পর জার্মানি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। জার্মানিতে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে।
এ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী বলেন, 'বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বাড়াতে চাইছে। ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে ব্যবসা করতে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় তার একটি তালিকা দিয়েছে আমাদের।'
'বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে,' বলেন তিনি।
এ সময়য় সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, 'বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক সাহায্য থেকে বাণিজ্যে চলে গেছে। বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের মূল্যবোধের ওপর জোর দেয়।'
জার্মানি বাংলাদেশকে যেন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে, জলবায়ু পরিবর্তন ও শিল্প খাতে প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহযোগিতা করে, এ আহ্বান জানান তিনি।