ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন, রিহ্যাবের উদ্বেগ
অবকাঠামো নির্মাণে রাজউকের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত ইজি অব ডুইং বিজনেসের পরিপন্থী এবং এতে করে হয়রানি বেড়ে যাবে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) বলেন, 'পত্রিকা মারফত জানতে পারি, শুধুমাত্র বহুতল ভবনই নয় যেকোনো ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের। এ ক্ষেত্রে একই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কতবার অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার জনগণের ভোগান্তি কমাতে চাচ্ছে। এ জন্য অনেক কিছু ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। সরকার যেখানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা প্রচলন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে এই জাতীয় সিদ্ধান্ত গৃহায়ণ শিল্পের জন্য একটি গভীর ও নবতর সংকট সৃষ্টি করবে। সরকার যেখানে ইজি অব ডুইং বিজনেস করার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ইজি অব ডুইং বিজনেস পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।'
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, 'সিটি করপোরেশন অনুমোদিত স্থাপনা নিয়মিত মনিটরিং করার ব্যবস্থা রাখবে এবং যদি সিটি করপোরেশন মনে করে রাজউক অনুমোদিত অবকাঠামো শহরের জন্য কল্যাণকর নয় তাহলে সেই অবকাঠামোর কাজ বন্ধ করে দিতে পারবে। এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই কল্যাণকর বা অকল্যাণকরের মাপকাঠি কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে? এই প্রশ্নে আমরা শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। বিষয়টি আবাসন ব্যবসায়ী এবং যে বা যারা ব্যক্তিগত ভবন তৈরি করবেন তাদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক।'
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা অপরিণামদর্শী হবে বলেও মন্তব্য করেন রিহ্যাব সভাপতি।
তিনি বলেন, 'ভিন্ন ভিন্ন তদারকি সংস্থার অনুমোদন শর্তের পারস্পরিক বৈপরীত্যের শিকার হবেন যারা ভবন নির্মাণ করবেন তারা। দুটো প্রশাসনকে একটি কাজের দায়িত্ব দিলে জনগণের ভোগান্তি শুধুই বাড়বে। ফাইল ছোড়াছুড়ির নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে। সমন্বয়হীনতা তৈরি হবে এবং নতুনভাবে প্ল্যান পাস করতে সময় বেশি লাগবে।'