ভোটের আগেই নৌকায় সিল
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাতিলাসাঙ্গন কেন্দ্রে ভোটের আগেই ৩৫০টি ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া, সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকার সিল মারা ব্যালটে ভোট নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মৌলভীবাজার
জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের পাতিলাসাঙ্গন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার পিনাল কান্তি ঘোষ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজ বৃহস্পতিবার ভোট শুরুর আগে ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ১০-১৫ জন দুষ্কৃতিকারী মুখোশ পরে এসে আমাকে জিম্মি করে ৩৫০টি ব্যালটে সিল মারে।'
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ভোটগ্রহণের আগে ওই ব্যালটগুলো বাতিল করা হয়। পরে প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি জানতে পেরে আমি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি ৩৫০ জাল ভোটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।'
'তিনি আমাকে বলেছেন যে কেন্দ্রে একটু ঝামেলা হয়েছে। জাল ভোটগুলো বাতিল করে ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়,' যোগ করেন তিনি।
সূত্র জানায়, এই কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার আগে ব্যালট পেপার চেক করার সময় প্রায় ৩৫০টি ব্যালটে নৌকার সিল পাওয়া যায়। এতে সঠিক সময়ে ভোট শুরু হয়নি। পরে প্রার্থীদের সমঝোতায় ১ ঘণ্টা পর ভোট শুরু হয়।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শরফ উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আজ সকালে পাতিলাসাঙ্গন কেন্দ্রে নৌকাসহ আরও কয়েকটি প্রতীকে জাল ভোট ধরা পড়ে। পরে প্রিজাইডিং অফিসারসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, 'ব্যালটে আগে সিল মারার বিষয়টি ঠিক নয়, এটা গুজব।'
সিরাজগঞ্জ
সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে সিল মারা ব্যালটে ভোট নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, আব্দুললা আল মাহামুদ কেন্দ্র ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিল মারা ব্যালটে ভোট গ্রহণের খবর পাওয়া গেছে।
রঘুনাথপুর কেন্দ্রের স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট আলপনা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বহিরাগত কিছু লোকজন এসে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে আগেই সিল মেরে বাক্সে ভরে দিচ্ছে। তবে, সদস্য পদে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
রঘুনাথপুর কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সোহেল রেজা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ভোটের আগেই ব্যালটে সিল মারার বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
তবে স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, কতিপয় বহিরাগত ব্যালটে সিল মারার চেষ্টা করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা প্রতিহত করে।