মালয়েশিয়াগামী ট্রলার থেকে ৫৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ২ পাচারকারী

নিজস্ব প্রতিবেদন, কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে বঙ্গোপসাগরের গভীর থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার থেকে নারী ও শিশুসহ ৫৮ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পাচারকারী চক্রের ২ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ ছাড়া পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি ট্রলারও জব্দ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার ভোরে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ বিষয়ে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর উপকূলের গভীর সাগরে এ অভিযান চালানো হয়। আটক পাচারকারীরা হলেন, কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার বাগমারা এলাকার মো. আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (৩২) এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশিখালী ইউনিয়নের ছামিরা পাড়ার বাসিন্দা মৃত সিরাজুল হকের ছেলে মুছা কলিমুল্লাহ (৪২)। মুছা কলিমুল্লাহ বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় বসবাস করে।'

উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৫৭ জন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় নাগরিক। এদের মধ্যে ১১ জন শিশু, ২৪ জন নারী ও ২৩ জন পুরুষ।

তিনি আরও বলেন, 'উদ্ধার হওয়ারা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা। এছাড়া বাংলাদেশি স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ী টেকনাফ উপজেলায়।'

র‍্যাব জানায়, শুক্রবার ভোররাতে টেকনাফের শামলাপুর উপকূল দিয়ে ট্রলার করে সাগরপথে কিছু লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচার করা হবে এমন খবরে র‍্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে গভীর সাগরে সন্দেহজনক একটি ট্রলার দেখতে পেয়ে জব্দ করা হয়। এসময় ট্রলারটির ডেকের নিচে বিশেষ কায়দায় জিম্মি করে রাখা অবস্থায় ৫৭ জন রোহিঙ্গা এবং এক জন স্থানীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। ২ পাচারকারিকে আটক করা হয় ।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম সরকার, 'স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে বিভিন্ন পেশায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উদ্ধার হওয়া লোকজনের জনপ্রতি ৫০-৫৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে আদায় করে দালালরা। অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থানকারি পাচারকারী চক্রের জাহাজে উঠার পর মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আদায় করার কথা ছিল।'

'মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে গত ৩ দিন আগে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। পাচারকারী চক্রের সদস্যরা মালয়েশিয়াগামীদের ৪-৫ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ করে টেকনাফের হাফিজাপাড়ার পাহাড়ী এলাকার গোপন আস্তানায় জড়ো করে। এক পর্যায়ে এ রকম কয়েকটি দল একসাথে জড়ো হওয়ার পর ছোট ছোট ট্রলারে করে গভীর সাগরে  অবস্থানরত বড় জাহাজে তোলার ব্যবস্থা করে পাচারকারী চক্র,' বলেন তিনি।  

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে দীর্ঘদিন ধরে তারা শরণার্থী ক্যাম্প কেন্দ্রিক মালয়েশিয়ায়ি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। এসব পাচারকারীরা গভীর সাগরে অবস্থানরত জাহাজে তুলে দেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে আসছিল। সাগরের বড় জাহাজের দালালদের হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে তারা মোটা অংকের টাকা আদায় করে।

তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া লোকজনকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে টেকনাফ থানায় মামলা করা হয়েছে।