রাজশাহীতে পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে তেল ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ
রাজশাহীর বানেশ্বর বাজার থেকে ৪ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার ও প্রায় ৯৩ হাজার লিটার তেল জব্দের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বানেশ্বর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।
আজ শনিবার বিকেলে আয়োজিত এই সম্মেলনে পুলিশী হয়রানির প্রতিবাদ জানান ব্যবসায়ীরা। নেতারা বলেন, তারা 'ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুতদার নন, বৈধ উপায়েই ব্যবসা করছেন'।
সংবাদ সম্মেলনে ২০১৯ সালে জেলার সর্বোচ্চ করদাতা পুরস্কারপ্রাপ্ত শৈলেন কুমার পালসহ গ্রেপ্তারকৃত ৪ ব্যবসায়ীর মুক্তি এবং জব্দকৃত তেল ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সমিতির সভাপতি জুবায়ের মণ্ডল জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৪ ব্যবসায়ী তাদের পূর্বপুরুষকে অনুসরণ করে ব্যবসা করে আসছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'দেশের আইনে একজন ব্যবসায়ীকে ৩০ দিনের বেশি ভোজ্যতেল মজুত করার অনুমতি দেওয়া হলেও তেল মজুত করার ৫ থেকে ৭ দিনের মাথায় পুলিশ তা গুদাম থেকে জব্দ করে নিয়ে যায়।'
গ্রেপ্তারকৃত ব্যবসায়ী শৈলেন কুমারের ভাগ্নে রাকেশ কুমার বলেন, 'আমরা কখনোই কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের পাইকারি ব্যবসায় বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ব্যবসার ধরণ বুঝতে পারেনি এবং তারা ভুল করে আমাদেরকে মজুতদার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।'
গত ১০ মে রাতে অভিযান চালিয়ে ৪ ব্যবসায়ীকে আটক এবং ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা মূল্যের ৯০ হাজার ২০০ লিটার ভোজ্যতেল ও একটি ট্রাক জব্দ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুতের অভিযোগে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এ মামলা করে।
জানতে চাইলে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অভিযানে তেল মজুতের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজারে যখন তেল নাই তখন তাদের গোডাউনে এতো তেল। এটা তো মজুতই। ব্যবসায়ীরা অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু তাদের আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে।'
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, 'বানেশ্বর বাজারে কখনোই তেলের সংকট হয়নি। দাম বৃদ্ধির পরেও আগের দামেই এ বাজারে তেল বিক্রি করা হয়েছে। যে ৪ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা ৫টি জেলার ১০টি উপজেলায় তেল সরবরাহ করে থাকেন।'