রাজাকারের বদলে মুক্তিযোদ্ধা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে: নাটোরের আ. লীগ নেতা

ক্ষমা চাইলেন মুসফিকুর রহমান মুকু
নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে ক্ষমা চাইলেন নাটোর নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান মুকু। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'ভুলবশত "রাজাকার" শব্দটির পরিবর্তে "মুক্তিযোদ্ধা" বলে ফেলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে।'

নিজের দেওয়া বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'ভুলক্রমে "একাত্তরের পর কিছু লোকজন, কিছু মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দেননি, সে কারণে প্রতিদিন ও রাতে চুরি ডাকাতি হতো"- এমনটি বলেছি। আসলে "রাজাকার" এর পরিবর্তে "মুক্তিযোদ্ধা" শব্দটি মুখ ফসকে বের হয়েছে। সেকাণে আমি আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।'

এর আগে সোমবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নলডঙ্গা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুসফিকুর রহমান মুকু বলেছেন, 'কিছু লোকজন, কিছু মুক্তিযোদ্ধা এ দেশে অস্ত্র জমা দিয়েছিল না। না দেওয়ার কারণে দেশে প্রতিদিন, প্রতিরাতে চুরি-ডাকাতি হতো।'

তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধার ক্ষুব্ধ হন।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা কমান্ডের সহ-কমান্ডার হাকিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আজকে মিটিং করেছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় যেহেতু মুসফিকুর রহমান ক্ষমা চাইছেন সে কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া যেতে পারে। সাবেক জেলা কমান্ডার আব্দুর রউফ তিনিও মুকুকে ক্ষমা করে দিতে বলছেন সেকারণে আমরা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।'

'ক্ষমার ওপরে কিছু নাই' বলেও মন্তব্য করেন হাকিম উদ্দিন।

তবে, মুসফিকুর রহমান মুকুকে ক্ষমা করে দিতে বলার কথা অস্বীকার করেন নাটোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুর রউফ। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'নলডাঙ্গা উপজেলা সংসদের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো বিষয়টা কি ঘটেছে। এখন আমি ঢাকায় আছি ফিরে এসে খোঁজ নেবো।'

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন বিরূপ মন্তব্য করার করার পরে দুই-একজন মুক্তিযোদ্ধা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন মন্তব্য ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধারা এদশের সকল মানুষের আবেগের জায়গা। এটা ক্ষমা করে দিলে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মানবো না। প্রয়োজনে আলোচনা করে এ বিষয়ে কর্মসূচি দেওয়া হবে।'

আজ সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম পিয়াস, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাকিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা তনছের আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।