বিশ্ববাসীর প্রতি জাপানি রাষ্ট্রদূতের আহ্বান

‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে দেওয়া ঠিক হবে না’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। তিনি বলেছেন, 'বিশ্বের উচিত হবে না—বাংলাদেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় দিয়ে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্তিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া।'

আজ সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বিআইআইএসএস ও ঢাকায় জাপান দূতাবাস 'ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও বঙ্গোপসাগর উপকূলের পুনঃসংযোগ' শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে।

সেমিনারে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে আমাদের কাজ করা উচিত। এ ছাড়া, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানকে অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফআইওপি) ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেন রাষ্ট্রদূত। যেটি এই অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রচার করে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নৃশংস সামরিক অভিযানের পর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। গত ৫ বছরে বিশ্বশক্তিগুলো বারবার কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরও একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবাসন করা যায়নি– যা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাওকি আরও বলেন, 'আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জাপান কক্সবাজার ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে প্রস্তুত।'

'রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তর নীতিকে সমর্থন করে জাপান এবং গত মাসে প্রথমবারের মতো মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।'

এ ছাড়া, 'ভাসানচরকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের অংশ হওয়া উচিত' বলে মন্তব্য করলেও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, 'জাপান ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে।'

'বঙ্গোপসাগরকে আরও বেশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পাওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।'

এই দশকে বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশকে তার ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানো এবং সম্পূর্ণভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।'

তিনি বলেন, 'মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, মেট্রোরেল, আড়াইহাজারে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো অবকাঠামোগত প্রকল্প তৈরি করছে জাপান। যা বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে।'

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ফারুক খান বলেন, 'জাপানের মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলো এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।'

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) ও কোয়াড নামের একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত রয়েছে। এটিকে চীনের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) নামে চীনের আরেকটি বৈশ্বিক উদ্যোগ রয়েছে।

তবে, দুজন জাপানি বিশেষজ্ঞ বলেন, বিআরআই, আইপিএস বা এফওআইপি কমপ্লিমেন্টারি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তা হলো স্বচ্ছতা, উন্মুক্ততা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সামুদ্রিক চলাচলে আন্তর্জাতিক নিয়ম বজায় রাখা।

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব পাবলিক পলিসি বিভাগের অধ্যাপক তাকাহারা আকিও বলেন, 'চীন এই নীতিগুলো অনুসরণ করলে পরবর্তীতে জাপান তাকে সহযোগিতা করতে পারে।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ-উজ-জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাপানের আওয়ামা কাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিকুচি সুতোমু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন, বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান কাজী ইমতিয়াজ হোসেন ও বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান।