রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোচিং সেন্টার বা মক্তব বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোচিং সেন্টার বা মক্তব পরিচালনাকে বাংলাদেশ নিরুৎসাহিত করে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এর কারণ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান ভুল মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে পারে এবং এগুলোতে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয় না বলে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব কথা জানিয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, 'কোচিং সেন্টারগুলোর কারণে ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। এই ধরনের কোচিং সেন্টার শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করবে।'
দেশ-বিদেশের ২৫টি মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিও সরকারের কাছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানোর কয়েকদিনের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিবৃতি প্রকাশ করল।
বিবৃতিতে অবশ্য এনজিওলোর ওই আহ্বানের কথা উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সব অননুমোদিত বেসরকারি শিক্ষা কেন্দ্র ও মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (মিয়ানমার) মিয়া মো. মইনুল কবিরের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, 'বাংলাদেশ সরকার সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে মেয়েদের এবং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম সহজতর করছে করছে।'
এতে বলা হয়, 'যখন সরকার ক্যাম্পে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমে শিক্ষা বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে, তখন গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা সুবিধা নিয়ে বিভ্রান্তি প্রচার করা হচ্ছে।'
'ক্যাম্পে শিক্ষার সুবিধা বন্ধ করা, শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের সেখানে যেতে বাঁধা দেওয়ার খবর মিথ্যা ও বানোয়াট,' এতে আরও বলা হয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার ৬১৭টি শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছে। রোহিঙ্গা শিশুরা ক্যাম্পগুলোতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইউনিসেফ ও ব্র্যাকের তৈরি 'লার্নিং কমপিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যান্ড অ্যাপ্রোচ (এলসিএফএ)' নামের পাঠ্যক্রমের অধীনে পড়াশোনা করে।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, 'যেহেতু মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম বিভিন্ন গ্রেডে চালু হয়, তাই সব শিক্ষার্থীকে একটি মানসম্পন্ন পাঠ্যক্রমে শিক্ষা দেওয়া হয় এবং রোহিঙ্গাদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করা হয়। শিক্ষার নামে রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে কোনো বৈষম্য যেন সৃষ্টি না হয়, আমাদের তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত।'