র‌্যাব হেফাজতে বিএনপির সাবেক নেতার মৃত্যুতে এমএসএফের উদ্বেগ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

চট্টগ্রামে র‌্যাব হেফাজতে বিএনপির সাবেক নেতা নজরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।

পাশাপাশি এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানায় সংগঠন।

আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।

গণমাধ্যমে আসা সংবাদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ৮ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ প্রবর্তক মোড় এলাকা থেকে বিএনপির সাবেক নেতা ও বর্তমানে ঠিকাদারি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম (৬০) কে  র‍্যাব সদস্যরা গ্রেপ্তার করে পতেঙ্গায় র‍্যাব-৭ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। র‌্যাবের দাবি, নুরুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকের দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

'র‍্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার জানান, তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি বা তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও নেই। পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবিরও জানান, সুরতহালে নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।'

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মনে করে,  আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির মৃত্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 

র‌্যাবের হেফাজতে মৃত্যু যেভাবেই হোক না কেন মৃতের লাশের সুষ্ঠূ ময়নাতদন্ত করে তা প্রকাশ করা, সেই সাথে দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় এমএসএফ।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিএনপি কর্মী নজরুলকে মঙ্গলবার র‌্যাব-৭ এর একটি দল গ্রেপ্তার করে। তার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান।

নিহতের পরিবার জানায়, তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা ছিল।  

যোগাযোগ করা হলে র‌্যাব-৭ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ জানান, নজরুল পলাতক ছিলেন। ২০১২ সালে একটি হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ছিল এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।  

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে র‌্যাব তাকে চট্টগ্রাম শহরের শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি লিমিটেডের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে হেফাজতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, বলেন তিনি।

রাঙামাটি সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি পদে হেরে যাওয়ার পর নজরুল বেশিরভাগ সময় রাজনীতির বাইরে ছিলেন।