স্বাবলম্বী হয়েই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ফিরিয়ে দিলেন দিনমজুর জমির উদ্দিন
মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য একটি ঘর চেয়ে ২০১৮ সালে দিনমজুর জমির উদ্দিন সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন ভূমিহীন ও গৃহহীন। তিন বছর পর আবেদনে সাড়া দিয়ে গত বছর ২০ জুন চুয়াডাঙা জেলার জীবননগরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি দুই রুমের সেমিপাকা ঘর তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এটি ছিল মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার। সেখানেই তিনি এক সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
'এই ঘর আমার ভাগ্য বদলে দেয়,' জানান জমির। তার বাড়ি শাহাপুর গ্রামে। তার পিতাও ছিলেন দিনমজুর ও ভূমিহীন। তিনি জানান, ৬০০ টাকা ভাড়ায় এলাকারই একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন পরিবার নিয়ে। দিনের আয় দিয়েই জীবন চলত তার।
মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে নতুনভাবে জীবনের পরিকল্পনা সাজান জমির উদ্দিন। ছেড়ে দেন দিনমজুরি। এলাকা থেকে কখনো কাঁচা কলা কখনো পাকা কলা সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে বেচা-কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে লাভ গুণতে থাকেন তিনি। আর্থিক সচ্ছলতা আসায় তিনি একটি ভ্যান কেনেন।
'প্রতিমাসে সব খরচ বাদে আয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠে আসে,' বলেন জমির উদ্দিন।
ছয় মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে তিনি ৮ শতক জমি কেনেন একই এলাকায়। সেখানে একটি বাড়িও করেন।
'আমার মনে হয় আমি এখন আর ভূমিহীন নই। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারটি এখন আর আমার জন্য প্রয়োজ্য নয়,' বলেন জমির।
এরপরই সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করেন জমির উদ্দিন। গত ১৮ জানুয়ারি জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করে জমি ফেরত দেওয়ার কথা জানান। আবেদনে জমির উদ্দিন উল্লেখ করেন, অন্য যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আছেন জমিসহ ঘরটি তাদেরকে দেওয়ার হোক।
যোগাযোগ করা হলে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। জমির উদ্দিনের ফেরত দেওয়া দলিল তিনি গ্রহণ করেছেন বলে জানান।
'আমরা জমির উদ্দিনের এই উন্নতিতে আনন্দ প্রকাশ করেছি। তাকে ধন্যবাদ দিয়েছি। তার ইচ্ছেমতো অন্য একটি ভূমিহীন পরিবারকে ওই ঘরটি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে জেলা প্রশাসকে জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান,তারা বিষয়টি যাচাই করছেন। জমির একটি উদাহরন তৈরি করেছেন। শিগগির এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জমির আশ্রয়ণ প্রকল্পের যে ঘরে থাকতেন তার পাশের ঘরে থাকা ভ্যানচালক শহর আলীও মনে করেন জমির উদ্দিনের সফলতা একটি উদাহরণ। সবাই এতে অনুপ্রাণিত হবে।
জমির উদ্দিন বলেন, সঠিক চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিশ্রম করতে পারলে সাফল্য আসবেই।