নোয়াখালী

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্মেলনে ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে ২ সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দীপক সাহা ও সুমনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে সংঘর্ষের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'তাদের সম্মেলনে আমাদের অনুমতি ছিল না। বক্তৃতা চলাকালে এক ব্যক্তি প্রতিবাদ করার পর তা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।'

এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

ঐক্য পরিষদ জেলা শাখা সূত্রে জানা যায়, চৌমুহনী পৌর মিলনায়তনে শুক্রবার ঐক্য পরিষদে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাবু বিনয় কিশোর রায়ের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ।

নোয়াখালী পূজা উদযাপন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন চন্দ্র মজুমদার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকালে সম্মেলন শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট পাপ্পু সাহা ও নোয়াখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র রতন কৃষ্ণ পালের  অনুসারীদের মধ্যে কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলার নারায়ণ দাস তার বক্তৃতায় সম্মেলনটা বিধি অনুযায়ী হচ্ছে না উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকে তার কথায় সমর্থন জানায় এবং পাপ্পু সাহা ও রতন কৃষ্ণের অনুসারীদের মধ্যে হট্টগোল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।'

জানতে চাইলে রতন কৃষ্ণ পাল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে পাপ্পু সাহা উত্তেজিত হয়ে যান। এ ঘটনার জের ধরে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।'

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অ্যাডভোকেট পাপ্পু সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাতাহাতি ও সংঘর্ষের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সম্মেলন শেষে বিনয় কিশোর রায়কে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট পাপ্পু সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি গঠন করা হয়।