১১ বছরের হাসান একা পাড়ি দিল ১২০০ কি. মি.
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে মা ও নানীকে নিয়ে থাকতো ১১ বছর বয়সী হাসান। এই শহরেই ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত শুক্রবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
হাসানের নানী শয্যাশায়ী, চলাফেরা করতে পারেন না। তাই ছেলেকে একাই ট্রেনে তুলে দিয়ে মাকে নিয়ে বাড়িতে রয়ে গেলেন হাসানের মা জুলিয়া পিসেকা।
বিবিসি জানায়, আজ মঙ্গলবার পূর্ব ইউক্রেন থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে নিরাপদে স্লোভাকিয়ায় পৌঁছেছে ১১ বছর বয়সী হাসান। তার সঙ্গে ছিল দুটি ছোট ব্যাগ, একটি পাসপোর্ট আর স্বজনদের ফোন নম্বর লেখা কাগজ।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, হাসান এক জন সত্যিকারের নায়ক। হাসি দিয়ে সে সবার মন জয় করে নিয়েছে। সে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ, একটি ছোট লাল ব্যাকপ্যাক এবং তার পাসপোর্ট নিয়ে সীমান্তে পৌঁছেছিল। সীমান্ত পার হওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে খাবার ও পানীয় দেয়। সীমান্ত কর্মকর্তারা স্লোভাকের রাজধানী ব্রাতিস্লাভাতে আত্মীয়দের সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দেয়।
স্লোভাক পুলিশের পাঠানো একটি ভিডিওতে হাসানের মা জুলিয়া পিসেকা তার ছেলের যত্ন নেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'আমার শহরের পাশেই একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে রাশিয়ানরা গোলাগুলি চালাচ্ছে। আমি আমার মাকে ছেড়ে যেতে পারিনি। কারণ তিনি হাঁটতে পারেন না। তাই আমি আমার ছেলেকে একাই স্লোভাকিয়ায় পাঠিয়েছি।'
অশ্রুসিক্ত চোখে হাসানের মা ইউক্রেনের সমস্ত শিশুর নিরাপত্তার জন্য আহ্বান জানান।
স্লোভাক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, 'হাসানের কাছে একটি কাগজে ফোন নম্বর লেখা ছিল সেটার মাধ্যমেই স্লোভাক রাজধানীতে তার আত্মীয়দের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। সে এখন নিরাপদে আছে।'
স্লোভাক কর্মকর্তারা হাসানের মা ও নানীকেও সাহায্য করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
বিবিসি জানায়, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর সেখান থেকে পালিয়ে আসা ২০ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে হাসান একজন। জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটি থেকে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি নাগরিক পোল্যান্ড সীমান্তে এসেছে, এর মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৫ জন স্লোভাকিয়ায় পৌঁছেছে।