রাশিয়ার ওপর নির্ভরতায় বিপাকে কাজাখস্তান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

প্রতিবেশী ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দায় পুরো বিশ্ব। এ যুদ্ধ পরীক্ষায় ফেলেছে রাশিয়ার আরেক প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র কাজাখস্তানকে।

গত জানুয়ারিতে কাজাখস্তান প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ নিজ দেশে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে আহ্বান জানান। তাতে সাড়া দিয়ে রুশ সেনারা আসেন মধ্য এশিয়ার খনিজসমৃদ্ধ দেশটিতে। ধারণা করা হচ্ছে, এ জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে ঋণী কাজাখ প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ।

আজ রোববার টোকিওভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে কাজাখস্তান মেনে নিলে বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক রাখার বিষয়ে দেশটির 'বহুমুখী' পররাষ্ট্রনীতি বাধাগ্রস্ত হবে।

শুধু তাই নয়, কাজাখস্তানে আবারও সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধার ঝুঁকি আছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইতোমধ্যে বিপাকে পড়েছে কাজাখস্তান।

বেসরকারি সংস্থা 'ওয়ান কাজাখস্তান'র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দিমাশ আলঝানভ গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'গত ১ দশক ধরে কাজাখস্তান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। এখন কাজাখস্তান এর মূল্য দিচ্ছে।'

প্রতিবেদনে বলা হয়, তোকায়েভ সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছেন। তার সরকার ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা করলেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউক্রেন থেকে রুশ সেনা অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়া সম্পর্কিত প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছিল ১৪১টি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মস্কো ইউক্রেনের রুশ-প্রধান ২টি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তোকায়েভ ২ বার পুতিনকে ফোন দিয়েছিলেন।

গত বুধবার তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন দিলেও পরে কাজাখ প্রেসিডেনশিয়াল ওয়েবসাইটে চলমান যুদ্ধকে 'যুদ্ধ' হিসেবে উল্লেখ না করে বলা হয়, 'প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।'

কাজাখস্তান ক্রেমলিনের চাপে ইউক্রেনে চলমান রুশ আগ্রাসনকে 'বিশেষ সামরিক অভিযান' হিসেবে দেখছে। তবে তার সরকারের ভেতর থেকেও চাপে আছেন তিনি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া কাজাখস্তানকে ইউক্রেন অভিযানে সেনা পাঠানোর অনুরোধ করা হলে দেশটি তা প্রত্যাখ্যান করে।

গত বৃহস্পতিবার কাজাখস্তানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী সুলতান কামালেতদিনোভ সাংবাদিকদের বলেন, 'রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত নিয়ে কাজাখস্তানের কিছুই করার নেই। আমরা কাউকেই সমর্থন দিচ্ছি না। তাই এ বিষয় নিয়ে কথা বলারও কিছু নেই।'

কাজাখস্তানের জনগণ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে গত ১ সপ্তাহে প্রায় ৩ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে কাজাখস্তানের অর্থনীতির উপর। কাজাখস্তানের আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। প্রতিবেদন মতে, কাজাখস্তানের মুদ্রার মান প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লন্ডন পুঁজিবাজারে কাজাখস্তানের হালিক ব্যাংকের দরপতন হয়েছে ৩৯ শতাংশ। কাসপি ব্যাংকের দরপতন হয়েছে ৪৫ শতাংশ এবং দেশটির জাতীয় ইউরেনিয়াম সংস্থা কাজাতোমপ্রোমের দরপতন হয়েছে ২৪ শতাংশ।

যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। রাশিয়ার ভেতর দিয়ে ইউরোপে পণ্য পরিবহনেও সমস্যায় পড়েছে ভূ-বেষ্টিত কাজাখস্তান।

প্রতিবেদন মতে, ইউরোপের আকাশসীমা রাশিয়ার জন্য বন্ধ হওয়ায় এর প্রভাবও পড়েছে কাজাখস্তানের উপর।