স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা করি সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলমান কঠোর লকডাউন শিথিল করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। তার মাধ্যমে সংক্রমণের হার বাড়তে পারে। শিথিল করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা করি সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড-১৯ আইসিইউ সম্প্রসারণ এবং ওপিডি শেড উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের যে আনন্দ, সে আনন্দ মানুষ করতে পারবে না। আমরা এমনভাবে যাতে ঘোরাফেরা না করি, ঈদের আনন্দ যেন দুঃখে পরিণত না হয়ে যায়। ট্র্যাজেডিতে পরিণত না হয়ে যায়। সংক্রমিত হয়ে মানুষ মারা গেলে ঈদ আর ঈদ থাকবে না, তখন আমাদের মাতম করতে হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের করোনাভাইরাস প্রায় সব বিভাগে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। কিছু কিছু বিভাগে স্থিতিশীল আছে, কিছু কিছু বিভাগে ঊর্ধ্বমুখী। আমাদের দেশে ১৫ হাজার বেড রয়েছে, এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ বেডে রোগী আছে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণের হার কমাতে হবে। সংক্রমণের হার কমাতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সংক্রমণের হার কমলে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে, স্বাস্থ্য সেবায় বিরাট চাপ পড়বে। আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হবে। বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়বে। যেসব কারণে সংক্রমণ বাড়ে, আপনাদের অনুরোধ করবো সেসব কারণ আপনারা বুঝে চলবেন।

খুলনা এবং রাজশাহী বিভাগে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে গিয়েছিল। আশার কথা হলো এখন কিছু কিছু জেলায় সংক্রমণ কমেছে। খুলনাতেও মৃত্যুর হার কমেছে। অর্থাৎ লকডাউনের সুফল আমরা পেয়েছি। আমরা সব সময় মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আইসিইউ মাত্র ২০টি ছিল, আমরা সেটাকে ৩০ এর উন্নীত করেছি। আমরা ১০টি আইসিইউ চালু করলাম। আমরা লক্ষ করেছি, এবার সংক্রমণ গ্রামে-গঞ্জে বেশি, শহরে কম। গ্রামের মানুষ মনে করে, সাধারণ সর্দি-কাশি যে কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করে। যারা বয়স্ক আছেন তারা বেশি মৃত্যু বরণ করছেন। আমরা ফিল্ড হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি— বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া ও তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন, দেখবেন কোন কোন লোকজন অসুস্থ হয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে টেম্পারেচার ও অক্সিজেন লেভেল মাপবেন। প্রয়োজনে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেবেন। এর মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার কমবে বলে আমরা মনে করি। স্টক থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। আমরা আরও ভ্যাকসিন পাব। ভ্যাকসিন নিতে যদি সমস্যা হয়, গ্রামের মানুষদের যদি নিবন্ধন করতে কষ্ট হয় তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েও আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া চেষ্টা করবো— এটা পরের বিষয়।

টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন গ্রহণের বয়সসীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা ছেলে-মেয়েদের তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজে পাঠাতে চাই। শিক্ষকদের আমরা ভ্যাকসিন দিয়েছি এবং ১৮ বছর ও এর বেশি বয়সী ছেলে-মেয়েদের আমরা ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসবো। তাদের স্কুল-কলেজে যাওয়ার সুযোগ করে দেবো। তাদের জীবনের একটা বছর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা একটা দেশের জন্য বিরাট ক্ষতি।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা কোন দিকে হবে সেটা দেখতে হবে। কোন বিষয়গুলোর সমালোচনা করবেন সে বিষয়গুলো দেখতে হবে। সমালোচনা করবেন যারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে না। যারা কোনো কাজ করে না, কথা বেশি বলে তাদের সমালোচনা করবেন। যারা মানুষকে মিসগাইড করে, মিথ্যা তথ্য দেয় তাদের সমালোচনা করবেন। আমরা জানি, অনেকে আমাদের এই সফলতাকে ভালো চোখে দেখে না। শেখ হাসিনা সুন্দরভাবে দেশ চালাচ্ছে, খাদ্যের অভাব হচ্ছে না, শিল্প কারখানা চলছে। এটা শেখ হাসিনার বিরাট সফলতা। এই সফলতা অনেকে সহ্য করতে পারে না, ঈর্ষান্বিত হয়। এই দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। এই দেশের চক্রান্তকারীরা, তারা এই দেশেরই লোক— তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আমরা জানি সমালোচনা হবে। আমরা জানি ঈর্ষান্বিত হবে। আমরা জানি মানুষকে মিসগাইড করবে। এই বিষয়গুলো আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে।