ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে ১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহী টার্কিশ এয়ারলাইনস
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে ফ্লাইট বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে টার্কিশ এয়ারলাইনস।
বিদ্যমান সাপ্তাহিক ৭টি ফ্লাইটের পাশাপাশি আরও ৩টি ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছে এইয়ারলাইনসটি।
আজ বুধবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সাক্ষাতকালে টার্কিশ এয়ারলাইনস বাংলাদেশের প্রধান এ কথা জানান।
মন্ত্রী তাদের এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
অ্যাভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যাত্রী বাজার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে প্রতি বছর ১ কোটির বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন।
মন্ত্রী টার্কিশ এয়ারলাইনসকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
দুই অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, এই দুটি বিমানবন্দর থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত হলে যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক হবে এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে করাচি হয়ে ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে টার্কিশ এয়ারলাইনস। ২০১২ সালের ২৫ মার্চ তারা সপ্তাহে চারটি সরাসরি ঢাকা-ইস্তাম্বুল ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের নেতৃত্বে এ বৈঠকে দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর বিলাল বেলইুর্ত ও টার্কিশ এয়ারলাইনস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে অংশ নেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বিমান পরিবহন, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং দুদেশের মানুষের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা পর্যটন, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করে।
আলোচনায় পর্যটন খাতে বিনিয়োগের বিষয়টিও উঠে আসে।
মন্ত্রী জানান, সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) অধীনে বাংলাদেশজুড়ে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবং এসব স্থানে অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবার উন্নয়নে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের জন্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, পর্যটন উন্নয়ন, আতিথেয়তা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের এই খাতের বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
উভয়পক্ষ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও আলোচনা করেন।
মন্ত্রী মিল্লাত বলেন, সহজ ভিসা সুবিধা দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ, ব্যবসা, পর্যটন ও মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে।
এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।