'দম' সিনেমার সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নূর ইসলাম

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ঈদে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক রেদওয়ান রনির নতুন সিনেমা ‘দম’। আফগানিস্তানে তালেবানদের হাতে অপহৃত এক বাংলাদেশির শ্বাসরুদ্ধকর বেঁচে ফেরার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। সেই গল্পের নেপথ্য নায়ক মো. নূর ইসলাম নিজেই শোনালেন তার জীবনের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা।

২০০৮ সালে আফগানিস্তানে অপহৃত হয়েছিলেন নূর ইসলাম। ৮৪ দিন বন্দিজীবনের পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বড় পর্দায় তার সেই জীবনযুদ্ধের গল্প উঠে এসেছে। নূর ইসলাম বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্ম সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে আমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেই ৮৪ দিনের সব ঘটনা দুই ঘণ্টার সিনেমায় পুরোপুরি তুলে আনা সম্ভব নয়। তবে আমি চাই দেশের মানুষ জানুক। আর বড় শিক্ষা হলো, আপনার ভেতরে যতক্ষণ দম আছে, ততক্ষণ হার মানা যাবে না।’

সিনেমাটিতে নূর ইসলামের স্ত্রী আনোয়ার পারভীন ওরফে রানির চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী। বাস্তবে সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা মনে করে আনোয়ারা পারভীন বলেন, ‘আমার সব সময় মনে হতো সে বেঁচে আছে। আমার বিশ্বাস ছিল, তার কিছু হলে আমি ঠিকই টের পাব। অনেকে আমাকে পাগল বলত, কিন্তু আমার মনের অবস্থা কেউ বুঝত না।’

‘দম’ সিনেমায় নূর ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, যার পর্দার নাম ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’। নিশো বলেন, ‘নূর ভাই ও তার স্ত্রীকে এখন আপনারা হাসিখুশি দেখছেন, কিন্তু তাদের ভেতরে সেই দিনের স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত। তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমরা সেই হাহাকার ও ক্ষোভটা টের পেয়েছি। আমি আমার চরিত্রের অনুপ্রেরণা তাদের কাছ থেকেই নিয়েছি।’

পরিচালক রেদওয়ান রনি জানান, নূর ইসলামের ডায়েরি পড়েই তিনি এই সিনেমার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। রনি বলেন, ‘গল্পটি যখন প্রথম পড়ি তখন কেঁদেছি, নূর ভাইয়ের সঙ্গে যখন প্রথম বসলাম, তখন আমরা দুজনই কেঁদেছি। নূর ভাই ডায়েরিটা আমাকে দিয়েছিলেন। সেটি পড়লে বোঝা যায় কেন এটি এক বাংলাদেশির জিতে যাওয়ার গল্প। সিনেমাটি দেখার পর নূর ভাই যখন জড়িয়ে ধরলেন, তখন মনে হলো আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে।’

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে দেশের সিনেমা হলগুলোতে (সিঙ্গেল স্ক্রিন) মুক্তি পাবে। রেদওয়ান রনির সঙ্গে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি।