‘বয়স আমাকে বেঁধে রাখতে পারে না’

স্টার অনলাইন ডেস্ক

স্বপ্ন সত্যি করার পথে দেরি বলে কিছু নেই। ৮৮ বছর বয়সে এসে যেন আবারও সেই কথাই প্রমাণ করলেন অস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেতা অ্যান্থনি হপকিন্স।

২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে হপকিন্স লিখেছিলেন, ‘বয়স আমাকে বেঁধে রাখতে পারে না... ৮৪ বছর বয়সেও আমি প্রথা ভেঙে নতুন কিছু ভাবার ক্ষমতা রাখি।’

অভিনেতা হিসেবে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এবার তিনি জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন সুরকার হিসেবে। প্রকাশ করেছেন নিজের সুর করা প্রথম একক সংগীত বা সিঙ্গেল ‘ব্র্যাকেন রোড’।

শুক্রবার রেকর্ড কোম্পানি ডেকা ক্ল্যাসিকস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ছয় দশকের বেশি সময় ধরে হপকিন্সের সুর করা অর্কেস্ট্রাল সংগীতগুলোর একটি সংকলন নিয়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার অ্যালবাম ‘লাইফ ইজ আ ড্রিম’। ‘ব্র্যাকেন রোড’ সেই অ্যালবামেরই প্রথম প্রকাশিত গান।

সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে আসে হপকিন্সের বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনের পাশাপাশি সুর ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসার কথা।

অভিনেতা হিসেবে অ্যান্থনি হপকিন্সের ক্যারিয়ার যেমন দীর্ঘ, তেমনি বর্ণাঢ্য। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ সিনেমায় সিরিয়াল কিলার হ্যানিবল লেক্টারের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পান তিনি।

‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ সিনেমায় বাটলার স্টিভেন্সের মতো কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি অস্কার জিতেছেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কারের পাশাপাশি দুবার অস্কার জিতেছেন হপকিন্স। তবে অভিনয়ের বহু আগে থেকেই সংগীত ছিল তার জীবনের গভীর এক ভালোবাসা।

মাত্র চার বছর বয়সে পিয়ানো বাজানো শুরু করেন তিনি।

হপকিন্স বলেন, ‘সংগীতই ছিল আমার প্রথম আকাঙ্ক্ষা, আমার প্রথম স্বপ্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাজীবনই আমি সুর তৈরি করেছি। এই সুরগুলোর অনেকগুলো কয়েক দশক ধরে আমার সঙ্গে আছে। এখনো আমি বারবার সেগুলোর কাছে ফিরে যাই।’

অ্যান্থনি হপকিন্স। ছবি: সংগৃহীত

ছয় বছর বয়স থেকেই পিয়ানোতে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সুর তৈরি করতে শুরু করেন হপকিন্স। কিশোর বয়সে স্থানীয় নাটকের জন্যও গান লিখেছেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে অভিনয়জগতে তার ব্যস্ততা ও খ্যাতি বাড়লেও সুর তৈরি থামাননি। অভিনয়ের আড়ালে নীরবে সংগীতের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ধরে রেখেছেন বছরের পর বছর।

নতুন এই অ্যালবামে স্থান পেয়েছে তার জীবনের বিভিন্ন সময়ে রচিত সংগীত। কিছু সুর বহু দশক ধরে নিজের কাছে আগলে রেখেছিলেন। এবার সেগুলো পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের শ্রোতাদের কাছে।

জীবনের কঠিন সময়েও সংগীত যে মানুষের কতটা বড় অবলম্বন হতে পারে, তার প্রমাণ হপকিন্স নিজেও।

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেখানে নিজের বিড়াল নিবলোর জন্য পিয়ানো বাজাতে দেখা যায় তাকে।

হপকিন্সের নতুন অ্যালবামের সংগীত রেকর্ড করেছে বিশ্বখ্যাত ফিলহারমোনিয়া অর্কেস্ট্রা। পরিচালনায় ছিলেন গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী গুস্তাভো দুদামেল। গত এপ্রিলে লন্ডনের আলেকজান্দ্রা প্যালেসে অ্যালবামটি রেকর্ড করা হয়।

ডেকা ক্ল্যাসিকস জানিয়েছে, হপকিন্সের পরিবার, তার জন্মভূমি ওয়েলস ও দীর্ঘ জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অ্যালবামের সুরগুলো তৈরি হয়েছে।

হপকিন্সের প্রশংসা করে দুদামেল বলেন, ‘তিনি সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাদের সৃজনশীল কণ্ঠ কোনো একটি নির্দিষ্ট শিল্পমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্চ ও পর্দায় তার অসাধারণ কাজের মধ্যে যে গভীর কল্পনাশক্তি, মানবিকতা ও আবেগের সত্যতা দেখা যায়, তার সংগীতেও তা উপস্থিত।’

দুদামেলের ভাষায়, ‘অ্যান্থনি একজন গল্পকারের হৃদয় ও একজন কবির অনুভূতি নিয়ে সংগীতের কাছে যান। তিনি এমন এক সুরের জগৎ তৈরি করেন, যা একইসঙ্গে গভীরভাবে ব্যক্তিগত এবং বিশ্বের সব মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত।’

আগামী ২১ আগস্ট প্রকাশিত হবে অ্যান্থনি হপকিন্সের অ্যালবাম ‘লাইফ ইজ আ ড্রিম’।