আমেরিকায় কেমন আছেন টনি ডায়েস
টনি ডায়েস নব্বই দশকের টেলিভিশন নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। বহু নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছেন। কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও। তবে তার শুরুটা হয়েছিল আবৃত্তি দিয়ে।
টনি ডায়েস অনেক বছর ধরে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী প্রিয়া ডায়েস একজন নৃত্যশিল্পী। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ের নাম অহনা। দূরের দেশে বসবাস করলেও শিল্প ও সংস্কৃতির পথ থেকে তারা একেবারেই সরে যাননি। সেখানেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে পারফর্ম করেন।
সম্প্রতি টনি ও প্রিয়া ডায়েসের সংসারজীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হলো। এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তারা। সেখানে তৌকীর আহমেদ, বিপাশা হায়াতসহ অনেক তারকা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি আমেরিকার জীবন, সংসার ও ক্যারিয়ার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন টনি ডায়েস।
আমেরিকায় কেমন আছেন? জানতে চাইলে টনি ডায়েস বলেন, ‘ভালো আছি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব সুন্দরভাবে দিন কাটছে আমাদের। আমরা সুখে আছি, অনেক ভালো আছি। এ জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। দেশে থাকতেও ভালো ছিলাম, আর এখানেও সবার ভালোবাসায় বেশ ভালোই আছি।’

দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের রহস্য কী? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মূল রহস্য হলো ভালোবাসা। দুজনের প্রতি যেমন ভালোবাসা আছে, তেমনি গভীর সম্মানবোধও আছে। আমরা প্রচুর ঘুরে বেড়াই। আমেরিকা ছাড়াও পৃথিবীর বহু দেশে একসঙ্গে ঘুরেছি। একে অপরকে অনেক সময় দিই, নিজেদের সবকিছু শেয়ার করি। জীবনকে আমরা উদ্যাপন করি। কারণ, জীবন তো একবারই আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, আমরা খুব সাধারণ থাকতে চেয়েছি, সাদামাটা জীবন যাপন করতে চেয়েছি। কখনোই অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল না। সৃষ্টিকর্তা যেভাবে রেখেছেন, তাতেই আমরা সুখী। মানুষের কাছ থেকেও এ জীবনে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। তাই প্রিয়া ও মেয়ে অহনাকে নিয়ে যেভাবে আছি, তাতেই অনেক ভালো আছি।’
টনি ডায়েস বলেন, ‘জীবনে প্রাপ্তি অনেক। তবে মানুষের ভালোবাসাটাকেই বড় করে দেখি। আমরা হাসতে ভালোবাসি, ঘুরতে পছন্দ করি। বিশেষ করে আমি নিজে ড্রাইভ করতে খুব ভালোবাসি। মাঝেমধ্যেই ড্রাইভ করে পরিবার নিয়ে অনেক দূরে চলে যাই। আমাদের একসঙ্গে দারুণ সব স্মৃতি আছে।’
বিবাহবার্ষিকীর ২৫ বছর স্মরণীয় করে রাখার বিষয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমরা ২৫ বছর আগে বিয়ে করেছি। বিয়ের দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবস। তবে আমরা এবার একটু পরে অনুষ্ঠান করেছি। সম্প্রতি নিউইয়র্কে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আমাদের অনেক কাছের মানুষেরা এসেছিলেন। সবার সঙ্গে অনেক গল্প হলো, দারুণ কিছু স্মৃতিও জমা হলো। দিনটি আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
এখনো স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন টনি। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর অনেক স্ত্রীই হয়তো তাদের শিল্পের জায়গা ছেড়ে দেন। কিন্তু আমি সব সময়ই চেয়েছি প্রিয়া যেন নাচটা চালিয়ে যায়। প্রিয়া কিন্তু তার নাচ ধরে রেখেছে। আমেরিকায় আমরা দুজন একসঙ্গে অনেকগুলো স্টেজ পারফরম্যান্স করেছি। তা ছাড়া আমি এখনো আবৃত্তি করি। আমরা দুজন ভিডিও করি, সুন্দর সময়গুলোকে ফ্রেমে ধরে রাখি। আমাদের মধ্যে যেমন ভালো বোঝাপড়া রয়েছে, তেমনি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও আছে।’
দেশ থেকে তারকারা আমেরিকায় গেলেই আপনার বাসায় একটি গেট টুগেদার দেখা যায়—এ প্রসঙ্গে টনি ডায়েস বলেন, ‘যখন দেশে ছিলাম, নিয়মিত অভিনয় করেছি, তখন সবার সঙ্গেই আমার সুন্দর একটা সম্পর্ক ছিল। সবার প্রতিই ভালোবাসা ছিল। সেই সূত্রে দেশ থেকে সহশিল্পীরা নিউইয়র্ক এলে আমার সঙ্গে দেখা করেন। আমিও তাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাই। আমার বাসায় আমরা চমৎকার আড্ডা দিই। বিশেষ দিনগুলোতেও তারা এখানে এলে ঘরোয়া আড্ডার আয়োজন করি। সবাইকে কাছে পেলে খুবই ভালো লাগে।’
প্রবাসে বাঙালিদের ভালোবাসা কতটা পান? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রচুর ভালোবাসা পাই। আমেরিকার যেখানেই যাই, সেখানেই মানুষের ভালোবাসা জোটে। অনেকেই কাছে এসে ছবি তোলেন, কুশল জানতে চান। বহুদিন পর দেখা হওয়ার কারণে অনেকে আবার কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি টনি ডায়েস না?” আমি বলি, হ্যাঁ। এরপর তারা গল্প জুড়ে দেন, ছবি তোলেন। এভাবেই সবার সম্মান পাই।’
টনি ডায়েস বলেন, ‘দেখতে দেখতে প্রিয়ার সঙ্গে ২৫ বছর কাটিয়ে দিলাম। এভাবেই জীবনের বাকি দিনগুলোও কাটাতে চাই।’
আমেরিকার কর্মব্যস্ত জীবন নিয়ে বলেন, ‘এখানে আমাদের বেশ ব্যস্ত সময় কাটে। দেশে যখন ছিলাম, তখন শুধু অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। এখানে এসে তৈরি হয়েছে নতুন এক ব্যস্ততা। এরপরও যা পেয়েছি, সবকিছুর জন্য ওপরওয়ালার কাছে সব সময় কৃতজ্ঞতা জানাই। এই জীবন নিয়ে আমি দারুণ খুশি।’