রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় পাহাড়ধস, ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ভারী বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে মাটিচাপা পড়ে মারা যাওয়া ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ১৪-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ/৩ সাব-ব্লকে অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটে। বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে।
এপিবিএন নিহত ছাত্রীদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলো—ক্যাম্প-৫ এর এ-১১ ব্লকের হাশিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), ক্যাম্প-৩ এর এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও তার বোন উম্মে সালমা (১২) এবং ক্যাম্প-৫ এর এ-৮ ব্লকের মোহাম্মদ ইলিয়াসের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ক্লাস চলার সময় মাদ্রাসার ওপর পাহাড় ধসে পড়ে বলে ক্যাম্পের কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন।
পাহাড়ধসের সময় মাদ্রাসার ভেতরে ঠিক কতজন শিশু ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে স্থানীয় কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, যখন পাহাড় ধসে পড়ে, তখন মাদ্রাসাটিতে অন্তত ৩০ জন শিশু পড়াশোনা করছিল।
এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, 'ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ক্যাম্প-৫ এর এ-৩ ব্লকের "খাদিজাতুল কুবরা মহিলা হেফজখানা"র ওপর পড়লে একটি দেয়াল ধসে যায়। এতে মাদ্রাসার ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী ৭ ছাত্রী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।'
সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযানে ৭ জনকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৪ জনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।
আহত ক্যাম্প-৩ এর দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা (৯), একই ক্যাম্পের নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) ও ক্যাম্প-৫ এর এ-৭ ব্লকের বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত ডিআইজি।
এর আগে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সোমবার ভোরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তিনটি আলাদা স্থানে পাহাড়ধসে আট জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।

