গাইবান্ধায় প্রায় বিপন্ন হিমালয়ান শকুন উদ্ধার
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি প্রায় বিপন্ন হিমালয়ান গ্রিফন শকুন উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার কাশিম বাজার এলাকায় পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (তীর) সদস্যরা স্থানীয় বন বিভাগের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে।
পরে শকুনটিকে রংপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সিচা–কাশিম বাজার এলাকার বাসিন্দা আমিন হোসেনের একটি মাঠে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় শকুনটিকে।
খবর পেয়ে সোমবার ভোরে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ইউনিট তীরের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তারা শকুনটি উদ্ধার করে গাইবান্ধা বন বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে পাখিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
২০২১ সালে 'জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পুরস্কার' জয়ী প্রতিষ্ঠান তীরের গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ইউনিটের সাবেক সভাপতি জিসান মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) প্রোগ্রাম সহকারী সুলতান আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এসব শকুন হিমালয়ের তীব্র শীত ও ঝড় সহ্য করতে না পেরে সমতলের দিকে চলে আসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর তারা অনেক সময় এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে আর উড়তে পারে না। বিশ্রামের সময় স্থানীয়রা প্রায়ই এগুলোকে অসুস্থ ভেবে ভুল করেন।'
আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, হিমালয়ান গ্রিফন বিশ্বব্যাপী একটি প্রায় বিপন্ন প্রজাতির পাখি, যোগ করেন তিনি।
তীরের গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ইউনিটের বর্তমান সভাপতি মোশাররফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একসময় বাংলাদেশে সাত প্রজাতির শকুন ছিল। বর্তমানে দেশের ভেতরে লালমাথা শকুন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন মাত্র প্রায় ২৬০টি সাদা-পিঠ শকুন টিকে আছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিযায়ী হিমালয়ান গ্রিফন শকুন সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রতি বছরই আমরা উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিযায়ী হিমালয়ান গ্রিফন শকুন উদ্ধার করে থাকি।'
মোশাররফ জানান, আইইউসিএনের কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ ও গাইবান্ধা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের পরামর্শ অনুযায়ী শকুনটিকে রংপুর বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে বিশেষ চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।