গরম কতদিন থাকবে? বৃষ্টি হবে কবে?
হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে গরমে হাঁসফাঁস করছে সারাদেশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এ ছাড়া, ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রতি বছরের এপ্রিলে তাপমাত্রা বেশি থাকে। জলবায়ুগতভাবেই এপ্রিলে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে। আর বৃষ্টি না থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।'
তাপপ্রবাহ কতদিন চলবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা আশা করছি আজ, কাল ও পরশুদিন পর্যন্ত এই মৃদু-মাঝারি তাপপ্রবাহ থাকবে। পরশু থেকেই কিছুটা কমে যেতে পারে। পরশুর পরদিন তাপপ্রবাহ থাকবে না আশা করি।'
বৃষ্টির বিষয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক ডেইলি স্টারকে বলেন, তাপমাত্রা কমে আসার পর আগামী সোম-মঙ্গলবারের দিকে ঢাকাসহ সারা দেশেই বৃষ্টির একটা সম্ভাবনা আছে। আর সিলেটে রোববারের দিকে বৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু এখন কালবৈশাখীর মৌসুম, বৃষ্টির পরপরই কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এদিকে, তাপপ্রবাহের মধ্যে তীব্র গরমে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
রাজশাহীর তালাইমারী এলাকার অটোরিকশাচালক মনসুর আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রিকশা চালানোর সময় মনে হচ্ছে চোখে-মুখে আগুনের আঁচ এসে লাগছে। এখনই যদি এই অবস্থা হয়, সামনে তো গরম আরও বাড়বে। আমাদের মতো যারা বাইরে কাজ করি তাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।'
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে জেলায় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
তীব্র গরমের মধ্যে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। রাজশাহী নগরীর অকট্রয় মোড়ের একটি জ্বালানি পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মো. মনির বলেন, 'এই রোদের মধ্যে দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। একদিকে জ্বালানি তেলের সংকট, তার ওপর এই প্রচণ্ড গরম—সব মিলিয়ে অবস্থা নাজেহাল।'
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। মাঝে কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছিল। তবে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করেছে এবং এই ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।'
তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে দুপুর ১২টার পর থেকেই রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমতে শুরু করে।
দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের ব্যস্ততম সড়কে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে লোকজন নেই বললেই চলে। প্রায় সব দোকান বন্ধ থাকতে দেখা যায়।
ভ্যানচালক বাবর আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাধারণ ৬০০-৭০০ টাকা আয় হয়। আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভাড়া পেয়েছি মাত্র ১৬৫ টাকা।'
ইজিবাইকচালক আব্দুল রউফ বলেন, 'হঠাৎ প্রচণ্ড গরম পড়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।'
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান কাজী আরিফ আহমেদ বলেন, 'গরমটা অস্বাভাবিক। এই তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতাসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা উচিত ও পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার।'
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত তিনদিন ধরে হঠাৎ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।'
(এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন রাজশাহী ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি)