২ বিভাগসহ ৮ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট
8 January 2026, 05:32 AM
UPDATED 8 January 2026, 11:51 AM

দেশের আট জেলা ও দুই বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ বৃহস্পতিবার পূর্বাভাসে এমনটি জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি। 

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আজ সকালে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এখানে এ মৌসুমে এর নিচে তাপমাত্রা নামেনি। আরও কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শীতের তীব্রতা বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিন ও রাতজুড়ে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার সঙ্গে হালকা বাতাস থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতো উপসর্গ বাড়ছে।

এদিকে তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কষ্টে দিন কাটছে তাদের। স্বল্প আয়ের কারণে অধিকাংশ শ্রমিকের পক্ষে গরম কাপড় কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক মহিমা রানী ও আদরমনি মৃধা বলেন, দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পাঁচ-সাতজনের সংসার চলে। খাওয়াব নাকি গরম কাপড় কিনব—এই চিন্তায় দিন যায়। বাজারে জিনিসপত্রের দাম এত বেশি যে শীতবস্ত্র কেনা অসম্ভব।

শ্রমিকরা আরও জানান, চা বাগানগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাজুক। ডিসপেনসারিগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই। ফলে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।