ডেঙ্গু: ৮ মাসের মোট মৃত্যু ছাড়াল সেপ্টেম্বরের ২১ দিনে

তুহিন শুভ্র অধিকারী
তুহিন শুভ্র অধিকারী

রাশিদা বেগম গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি পাটের গুদামে কাজ করতেন। তার স্বামীও সেখানে কাজ করেন।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তার শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ওঠে, সেই সঙ্গে ব্যথা। একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ নেন তিনি। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে ১৪ সেপ্টেম্বর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন তাকে নেওয়া হয় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রায় ৪০ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা রাশিদা ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান।

রাশিদার জামাতা মোহাম্মদ ওমর ফারুক গতকাল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘তেমন কিছু ছিল না, তবে যা আয় করতেন, তা দিয়ে তাদের মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন।’

সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনে মশাবাহিত এই রোগে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এর আগের ৮ মাসে নথিভুক্ত মোট মৃত্যুর চেয়েও এই সংখ্যা বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৫।

মৃতদের মধ্যে ২ জন রাজশাহী বিভাগ ও ২ জন ঢাকা শহর এবং ১ জন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা।

একই সময়ে দেশে ১ হাজার ৮৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ বছর এক দিনে এত বেশি রোগী এর আগে শনাক্ত হয়নি। গতকাল পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬৫ হাজার ৪৯৯ হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

চলতি মাসের শুরুতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিল, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ বা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্ত ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন রোগীর প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং মোট মৃত ১৯৫ জনের ৫০ শতাংশই সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন।

চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনে মোট ২৯ হাজার ৬৫৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৮৬২ জন। ওই বছর মৃত্যু হয় ৭৬ জনের। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৯৭ এবং ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সারা দেশে হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের ভিড় দ্রুত বাড়ছে।

গতকাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৪৪ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩৫৪ এবং তার আগের দিন ৪ হাজার ১৩৩ জন।

সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনে মাত্র ২ হাজার ৬৮৩ জন হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিলেন।

দেশে যখন হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, সেই সময়ে এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

গতকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হাম বা হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট ৬ হাজার ৪৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।