হাম প্রতিরোধে আরও ৩৫ লাখ শিশুকে টিকা দেবে সরকার
হাম প্রতিরোধে সরকার আরও ৩৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
ইউনিসেফ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সহায়তা দেয় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস, গ্যাভি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
শিগগির হামজনিত মৃত্যু কমে আসবে—আশা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার আমরা চার মাস আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতি শুরু করেছি।’
অক্টোবরে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এমন সতর্কবার্তার ভিত্তিতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।’
‘এখনো ঝুঁকি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় প্রাদুর্ভাব কম তীব্র,’ যোগ করেন তিনি।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এরিক জিলান বলেন, ‘চলমান হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র আনন্দিত।’
‘এই কর্মসূচির লক্ষ্য সারা দেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজির আওতায় জীবন রক্ষাকারী টিকার মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদারের প্রচেষ্টায় আমরা সহযোগিতা করছি,’ যোগ করেন তিনি।
ইউনিসেফের কমিউনিকেশন ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মিগেল মাতেওস মুনোজ বলেন, ‘হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ। তবে অসুস্থতা ও মৃত্যু ঠেকাতে এখনো প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের অগ্রাধিকার হলো ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানো, কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান জোরদার করা এবং প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।’