হাম মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে সক্ষম হচ্ছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সবার প্রচেষ্টায় হাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বিশেষজ্ঞদের দেওয়া মত উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়ের বুকের দুধ কম পাওয়ায় পুষ্টিহীনতায় ভুগছে শিশুরা। এতে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এই কর্মসূচিকে কেবল একটি সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভিটামিন “এ” খাওয়াচ্ছি, “ডি” খাওয়াচ্ছি।’

মায়ের বুকের দুধের বিকল্প না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলতে হয়, এখনকার মায়েরা ব্রেস্টফিডিংয়ে অভ্যস্ত না। দিন দিন কমে আসছে। একদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে বেবি হওয়া, তার শারীরিক গঠন অত্যন্ত দুর্বল এবং মারাত্মক হুমকির মুখামুখি নিয়ে যায়। একটি বাচ্চা যখন মায়ের পেটে গড়ে ওঠে, যতক্ষণ না আল্লাহ নির্ধারিত সময়ে সে বের হবে, দুনিয়ার মুখ না দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে মায়ের কাছ থেকে পেটে পুষ্টি নিতেই থাকে।’

হামের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন কী অবস্থা ছিল। সবার প্রচেষ্টায় আমরা হাম মোটামুটি একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে সক্ষম হচ্ছি। অনেক ডাক্তারদের সাথে আলাপ হয়েছে। একটা চাইনিজ টিমের সাথেও আলাপ হয়েছে। আমারও কিন্তু ছোটবেলায় হাম হয়েছে, আমার মনে আছে, এবং তখনকার মায়েদের একটা কথা ছিল—জন্মের পরে একবার হাম হবেই। একবার জলবসন্ত হবেই।’

‘এখনকার হাম কিন্তু খুবই তীব্র। অনেক বিজ্ঞজনদের মতে, পুষ্টির অভাবেই এই ঝুঁকিপূর্ণ হামের প্রভাব বৃদ্ধি করেছে,’ যোগ করেন তিনি।

কেবল ভিটামিন খাইয়ে জাতিকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে গড়ে তোলা সম্ভব না বলেও এ সময় মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

‘যদি শাল দুধের বিকল্প থাকতো, (বাচ্চা) হওয়ার পরে অন্য কিছু দিয়ে দিতে পারতেন পলিও ড্রপের মতো,’ যোগ করেন তিনি।

পুষ্টিকর্মীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে আপনাদের কাছে, যারা ঘরে ঘরে যান, মায়েদেরকে বলা যাতে করে বাচ্চাদেরকে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করান। আমাদের অশিক্ষিত গ্রামীণ মহিলাদের মধ্যে এই রীতিটা এখনো চালু আছে। দুই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প শিশুর গঠনে আর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে কর্মজীবীরা কাজের দোহাই দেন। কেন! কাজে যাওয়ার আগেও তো একটা সময় থাকে। কাজ থেকে ফিরে এসে সময় থাকে, সেই সময়টা তো দুইবেলা অন্তত বাচ্চাকে বুকের দুধ দেওয়া যায়।’

সমাজ থেকে মাদক দূর করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নির্বাচন করি, নেশার কথা অনেকে বলেছে। আমি বক্তব্যে বলতাম যে, ভালো কথা আমরা নেশা দূর করব, কিন্তু আপনারা যারা আপনাদের সন্তানদেরকে সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে রাখেন; পাখিরা সব নীড়ে ফিরে, কিন্তু আমাদের বাচ্চারা বাইরে থাকে। কী করে? আমি একদম গ্রামীণ ভাষায় বলতাম যে, আমরা যখন নির্বাচনে ভোট চাই, দেখি, সন্ধ্যার পরে ঝাড়তলায়, বিলের আইল, টংয়ের ওপরে বসে বসে মোবাইল দেখে, খারাপ খারাপ কথা শোনে, খারাপ খারাপ দৃশ্য দেখে, খারাপ খারাপ নেশা খায়। বাচ্চাদের ভালো হবে কীভাবে? আপনারাই তো খারাপ করেন—বাবা-মায়েরা। কথাটা তারা স্বীকার করে।’

‘১১ বছর বয়স হলে সন্তানের যখন একটু মোচ ওঠা শুরু করে, একদম খুশি হয়ে আপনারা ঢলঢলা হয়ে একটা মোবাইল (ফোন) কিনে দিয়ে দেন। মোবাইল দেখে দেখে...তো বাচ্চাকে আপনি বাইন্ধা রাখবেন কতক্ষণ? তার মন তো বান্ধা যায় না। খারাপ হয়ে যায়। কাজেই কাউন্সেলিং ইজ দ্য বেস্ট থিং,’ যোগ করেন তিনি।