পাকিস্তানে আত্মঘাতি বোমা হামলায় নিহত ৫, আহত ১৩

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু শহরের ডোমেল থানায় আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

এতে অন্তত পাঁচ বেসরকারি মানুষ নিহত হয়েছে। এক পুলিশসহ অপর ১৩ জন আহত হয়েছেন। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য (স্বামী। স্ত্রী, কন্যা ও পুত্র) আছেন বলে জানা গেছে। 

বিস্ফোরক সম্বলিত একটি গাড়ি থানার পেছনের অংশে এসে আঘাত করে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণে সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।

তবে কাদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে, সে বিষয়টি ডনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। 

বিস্ফোরণটি এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে এর শব্দ বেশ কয়েক মাইল দূর থেকেও শোনা যায়। 

প্রাথমিক তথ্য মতে, থানার সেন্ট্রি পোস্ট পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। সার্বিকভাবে, ভবনের একটি বড় অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। 

আশেপাশের আবাসিক এলাকাও এতে ক্ষতির শিকার হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়ি ধসে পড়েছে এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। 

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২। 

জেলা জরুরি পরিস্থিতি কর্মকর্তা বখতুল্লাহ ওয়াজির পাঁচ নিহত ও ১৩ জন আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান, পুরো এলাকা থেকে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার না করা পর্যন্ত উদ্ধার ও খোঁজাখুঁজি কার্যক্রম চালু থাকবে। 

Citizens engage in relief activities on Friday morning after the suicide bombing. — Photo by author
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বোমা হামলা। ছবি: ডন

 

স্থানীয় মসজিদগুলোতে মাইকিং করে জনগণকে রক্ত দান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। এলাকাবাসীদের মধ্যে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ধার কাজে যোগ দেন। 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বান্নু জেলায় নিয়মিত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক মানুষ ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী, উভয়ই আক্রান্ত হচ্ছে। 

সব মিলিয়ে, গত এক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। 

২০২৫ সালের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে এ ধরনের হামলার কারণে নিহতের সংখ্যা ছিল ১, ৬২০। ২০২৫ সালে এসে তা বেড়ে ২,৩৩১ হয়েছে। 

প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)।