এক দাবি পূরণ, রইল বাকি তিন: তেলাপোকার দল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়ছে।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি পূরণ হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়াসহ বাকি দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিজিৎ দীপকের পদত্যাগ-পরবর্তী উদযাপনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, ‘গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।’

এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এটি প্রমাণ করে, আপনি যদি ভয় না পান, এই সরকারের সামনে মাথা নত না করেন, তাহলে যে কারও পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব। গণতন্ত্রে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’

ছবি: রয়টার্স

এটি প্রথম উইকেট, আমরা এখানেই থামব না: অভিজিৎ দীপকে

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে আন্দোলনের ‘কেবল শুরু’ বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

তিনি বলেন, ‘এটি প্রথম উইকেট। আমরা এখানেই থামব না। এটি কেবল শুরু।’

গত ৩৬ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দীপকে বলেন, ‘আমি সব শিক্ষার্থী এবং গত ৩৬ দিন ধরে এখানে অবস্থান করা সব স্বেচ্ছাসেবককে স্যালুট জানাই।’

দ্য হিন্দু বলছে, তার এই মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলনকারীরা তাদের বাকি দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চান।

শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয়: সোনম ওয়াংচুক

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণাকে শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক।

এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), জেন-জি তরুণদের এবং দেশের নাগরিকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সিজেপি, দেশের জেন জেড এবং দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে ভয় ও ভয়ের সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে যারা প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জবাবদিহি নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছি। এখন সময় সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।’

ওয়াংচুকের মতে, এই আন্দোলনের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু দায় নির্ধারণ নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা।

ছবি: এএফপি

‘ভারতের তরুণদের বিজয়’

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেনুগোপাল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের তরুণদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘তরুণদের শক্তিই অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও দায়ী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। এটি জনগণের জয় এবং জবাবদিহির দাবিতে লড়াই করা সবার বিজয়।’

বেনুগোপাল বলেন, ‘নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই কংগ্রেস, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী, তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিরোধীদলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের বাকি দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত নিপীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা।

ছবি: এএফপি

‘তরুণদের শক্তির বড় বিজয়’

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পাওয়ারও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘তরুণদের শক্তির বড় বিজয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৮ দিন ধরে তরুণদের যে সংগ্রাম ও দৃঢ়তা দেখা গেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের দৃঢ় দাবির মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। ভয়কে উপেক্ষা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই লড়াই সরকারকে নৈতিক দায় স্বীকারে বাধ্য করেছে। এটি গণতন্ত্রের শক্তির প্রতীক এবং দেশের তরুণদের ঐক্যের বড় বিজয়।’

ছবি: এএফপি

আন্দোলন দমন করলে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে: আম আদমি পার্টি

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারকে শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান জানিয়েছে আম আদমি পার্টি (এএপি)।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতা গোপাল রাই দাবি করেন, নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিহারের পাটনা ও গুজরাটে গ্রেপ্তার হওয়া সব ছাত্রনেতাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার পুলিশ ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। একদিকে তারা আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে গুজরাটে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

গোপাল রাই বলেন, ‘আপনারা যদি এভাবে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেন, তাহলে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে, তারা আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছে।’