জাপানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮

স্টার অনলাইন ডেস্ক

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩ বলে জানানো হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত মঙ্গলবার ভূমিকম্পের প্রায় আধা ঘণ্টা পর স্থানীয় এইয়ন শপিং মলে গ্যাস বিস্ফোরণ হলে সেটির বড় অংশ বিধ্বস্ত হয়। ওই শপিং মলের ভেতরে অনেক মানুষ এখনো আটকে আছেন।

কুমামোতোর স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, তারা ওই বিধ্বস্ত শপিং মলের ভেঙে পড়া পাথর, ইস্পাত ও তারের ভেতর থেকে চার জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা শপিং মলের ভেতর থেকে ১০ জনকে বের করে এনেছি। তাদের মধ্যে চার জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অপর এক ব্যক্তি মরণাপন্ন। বাকি পাঁচজন বিভিন্ন মাত্রার আঘাত পেয়েছেন।’

জাপানে চলছে তীব্র দাবদাহ। এ সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

মঙ্গলবারের ভূমিকম্পে বড় আকারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সেতু ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েক জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছেন না।

ভূমিকম্পের পর শপিং মল থেকে অনেক মানুষকে বের করে নিয়ে আসা হয়। তবে প্রায় ৫০ মিনিট পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের দমকে কেঁপে ওঠে শপিং মলের কাঠামো। অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন।

ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় পাঁচ জনের প্রাণহানি হয়েছে। পাশাপাশি, আরও চার ব্যক্তি নিখোঁজ আছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালের হিসাব মতে, জাপানের ২২ হাজার ৬৭০ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন। পাশাপাশি, গত বুধবার থেকে ৮৪ হাজার বাড়িতে পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।

টিভি ফুটেজে মানুষকে জ্বালানি ও সুপেয় পানি সংগ্রহের জন্য সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাজারো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাপানের কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.১ বলে উল্লেখ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর মাত্রা ছয় দশমিক আট এবং উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি জাপান। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে প্রতিবছর সাধারণত শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই জাপানে ঘটে।

এসবের বেশির ভাগই তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও, ভূমিকম্পের অবস্থান এবং ভূপৃষ্ঠের কত গভীরে এর উৎপত্তি হয়েছে, তার ওপর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।

২০১১ সালের ৯ দশমিক ০ মাত্রার ভয়াবহ সমুদ্রতলীয় ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও জাপানকে তাড়া করে বেড়ায়।

ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।