যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫, ট্রাম্পের প্রশংসা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মার্কিন এক বিমানঘাঁটির কাছ থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। ইরানে হামলা চালাতে ব্যবহৃত ওই ঘাঁটির আশেপাশে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড এবং বিস্ফোরক ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। বর্তমানে ব্রিটিশ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।  

রোববার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ইংল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটির দিকে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ এগিয়ে আসছে—এমন একটি কল পায় পুলিশ।

গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই খবরের ভিত্তিতে বিস্ফোরক আইনে অপরাধের সন্দেহে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্তের মূল দায়িত্বভার নিয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পাঁচজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ওই যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে, আর নিরাপত্তার খাতিরে সেগুলোর চারপাশে ৪০০ মিটার এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরীক্ষা চলাকালীন আশপাশের প্রায় ৮৫টি পরিবারের বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল রিচার্ড ওকোন জানান, এই এলাকায় আগামী বেশ কিছুদিন জরুরি পরিষেবার সদস্যদের উপস্থিতি থাকবে। তিনি জনসাধারণকে 'গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার' আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম জানিয়েছেন, তিনি সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের আজকের এই ঘটনাটি যে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের, তা আমি বুঝতে পারছি।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা ও বিশেষজ্ঞ দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকুন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে।

কেন এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো, তাদের কাছে বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না, বা এই ঘটনার সঙ্গে বিমানঘাঁটির কোনো সরাসরি সংযোগ আছে কি না—সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং ও অন্যান্য মার্কিন ইউনিট সতর্ক রয়েছে এবং তারা নিজেদের কর্মী ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘দারুণ কাজ’ হিসেবে  উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা তাদের ওপর দীর্ঘদিন নজর রাখছিলাম। তারা আমাদের স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেছিল। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ফলেই তাদের গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে।

রোববার মার্কিন মিশন যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।  

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় গত মার্চ মাসে তিনটি মার্কিন বি-১বি ল্যান্সার বোমারু বিমান রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করে।

ধারণা করা হয়, এটিই ছিল ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো প্রথম মার্কিন হামলা।

জুলাই মাসে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সতর্ক করে বলেছিল, যেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে, সেগুলোকে তারা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে।

তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র থাকার কথা জানায়নি বা ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিই তাদের লক্ষ্য ছিল  কি না, তা নিশ্চিত করেনি।