ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ, সময় নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প
ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার প্রস্তুতি শেষ করতে কয়েক দিন আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। তবে হামলা শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা শুরু হতে পারে। এর এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলেও নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে ইরানের জ্বালানি, অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বোমা বর্ষণ করা হতে পারে। এতে বাড়তে পারে তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা বিভাগের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি করে উপস্থাপন করা।’
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প যেকোনো সময় সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব “কার্ড” রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, তিনি সেটিই করবেন।’
গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের কয়েক ঘণ্টার বৈঠকেও ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো কোনো অগ্রগতি পায়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এখনো পারমাণবিক বিষয়ে ছাড়সহ যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর আলোচনা গতি পেয়েছে। নির্বাচনের আগে তা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি নয়, তবে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
এদিকে বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। কয়েক দিনের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় ফোনালাপ। এর আগে কয়েক সপ্তাহ তারা প্রায় কোনো কথা বলেননি।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আলোচনায় ৭ অক্টোবরের হামলায় নিহতদের ‘স্মরণ ও সম্মান’ করার বিষয়টি উঠে আসে। এর আগে ইরান নিয়ে নেতানিয়াহু তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বড় ধরনের অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এতে অংশ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা।
তাদের দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী মরিয়া ও ভীত হয়ে পড়েছে, ফলে তারা আগেভাগেও হামলা চালাতে পারে। ইরান এরই মধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে এবং তৃতীয় হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলের নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে ইরান। নতুন করে উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা নির্বাচনের শেষ সময়ে নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে।