৩২ লাখ ডলারে বিক্রি হলো ২৪৩ কেজি ওজনের টুনা মাছ

By স্টার অনলাইন ডেস্ক
5 January 2026, 06:43 AM

জাপানের রাজধানী টোকিওর প্রধান মাছের বাজারে প্রতি বছর একটি ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ নিলাম আয়োজিত হয়। ওই নিলামে চলতি বছরে ৩২ লাখ মার্কিন ডলারে একটি সুবিশাল টুনা মাছ কিনেছেন এক উদ্যোক্তা।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

জাপানের স্বঘোষিত 'টুনা মহারাজ' ও চেইন রেস্টুরেন্ট সুশি জানমাই-এর মালিক কিয়োশি কিমুরা ২৪৩ কেজি (৫৩৬ পাউন্ড) ওজনের বিশাল আকারের টুনা মাছটি কিনে নিয়েছেন।

জাপানের উত্তরাঞ্চলের ওমা এলাকার উপকূলে মাছটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

Tuna
২৪৩ কেজি ওজনের টুনা কিনে নেন জাপানি উদ্যোক্তা কিয়োশি কিমুরা। ছবি: এএফপি

ওই অঞ্চলটি জাপানের সেরা টুনা উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।

ওমায় গড়ে প্রতি কেজি উন্নত জাতের টুনা ১৩ হাজার ৩৬০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়।

প্রথা অনুযায়ী, বিশেষ ঘণ্টা বাজিয়ে নিলাম শুরু করা হয়।

প্যাসিফিক ব্লুফিন টুনা জাতের মাছটি কেনার পর কিমুরা জানান, 'আমি ভেবেছিলাম আরেকটু কম দামে মাছটা কিনে নিতে পারব। কিন্তু নিমিষেই এর দাম বাড়তে থাকে।'

সূর্যোদয়ের আগে টোকিওর সবচেয়ে বড় মাছের বাজারে নিলামের আয়োজন করা হয়েছিল।

গণমাধ্যমকে কিমুরা বলেন, 'যে দামে মাছটা কিনতে হলো, তা আমাকে বিস্মিত করেছে। তবে আমি আশা করছি এই মর্যাদাপূর্ণ টুনা খেয়ে অসংখ্য মানুষ নতুন শক্তিতে বলিয়ান হবেন।'

Tuna
জাপানের ঐতিহ্যবাহী মাছের বাজারে নিলাম। ছবি: এএফপি

'এ ক্ষেত্রে আমি নিজেকে কিছুটা হলেও সৌভাগ্যবান মনে করি। যখনই আমি একটি সুন্দর টুনা দেখি, নিজেকে সামলাতে পারি না। আমি এখনো এটা চেখে দেখিনি। তবে এটা যে সুস্বাদু হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই', যোগ করেন তিনি।

১৯৯৯ সাল থেকে ওই নিলামের বিষয়ে তথ্য সংরক্ষণ শুরু হয়।

সে সময় থেকে শুরু করে এটাই কোনো টুনা বিক্রি থেকে অর্জিত সর্বোচ্চ অর্থ।

জাপানি মুদ্রায় এর মূল্যমান ৫১ কোটি ৩ লাখ ইয়েন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৩৯২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

২০১৯ সালে ২৭৮ কেজি ওজনের ব্লুফিন টুনার দাম উঠেছিল ৩৩ কোটি ৩৬ লাখ ইয়েন। এবার সেই রেকর্ড ভেঙ্গেছেন কিমুরা।

Tuna
টুনা থেকে সুশি তৈরি করে বিক্রি করবেন কিমুরা। ছবি: এএফপি

২০১৮ পর্যন্ত টোকিওর কেন্দ্রে সুকিজি এলাকায় এই নিলাম আয়োজিত হোত। এখন আরও আধুনিক একটি অবস্থানে এটি স্থানান্তর হয়েছে।

২০২৪ সালে ২০ কোটি ৭০ লাখ ইয়েন দামে ২৭৬ কেজি ওজনের একটি ব্লুফিন বিকোয়।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় এই ধারায় ভাটা পড়ে। রেস্টুরেন্টগুলো তাদের কার্যক্রম সীমিত করে। যার ফলে টুনা বিক্রেতারা সে সময় অনেক কম দামে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হন।