ভেনেজুয়েলা কতদিন নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বছরের পর বছর স্থায়ী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে বুধবার দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন।
যুক্তরাষ্ট্র কতদিন ভেনেজুয়েলায় থাকবে—তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর নাকি তারও বেশি? এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি ট্রাম্প।
তিনি বলেন, 'আমি বলব, আরও অনেক দীর্ঘ সময়।'
একইসঙ্গে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আধিপত্যের বিষয়টি সময়ের ওপর ছেড়ে দেন ট্রাম্প। বলেন, 'সময়ই বলে দেবে।'
তেল
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিপুল পরিমাণ খনিজ তেলের ব্যবহার—তেল উত্তোলন ও বিক্রি কীভাবে করবেন তা তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, 'আমরা দেশটিকে আবার গড়ে তুলব—খুবই লাভজনকভাবে। আমরা তেল ব্যবহার করব, তেল নেব। এতে তেলের দাম কমবে। আবার ভেনেজুয়েলাকেও অর্থ দেওয়া হবে, যেটা তাদের খুব দরকার।'
ট্রাম্প জানান, ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেল থেকে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক লাভ করতে শুরু করেছে।
একদিন আগেই তিনি ভেনেজুয়েলা থেকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলনের ঘোষণা দেন।
তবে ভেনেজুয়েলার তেল খাত পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত করতে বছর লেগে যাবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠজন হওয়া স্বত্ত্বেও দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রকে 'প্রয়োজনীয় সবকিছুই দিচ্ছে' বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
মাদুরো আটক অভিযান
ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।
জানান, এই অভিযানের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি।
বলেন, 'অভিযান যাতে সফল হয় সেজন্য কেন্টাকির একটি সামরিক ঘাঁটিতে কারাকাসে মাদুরোর সুরক্ষিত কম্পাউন্ডের মতো একটি রেপ্লিকাও তৈরি করা হয়েছিল।'
তবে তিনি স্বীকার করেন অভিযান ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।
এসময় তিনি ১৯৮০ সালে ইরানে ৫২ মার্কিন জিম্মি উদ্ধার অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'ওই অভিযানের ব্যর্থতা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।'
কেন দেলসি রদ্রিগেজকে স্বীকৃতি
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও বিরোধী জোটের নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে সমর্থন না দিয়ে কেন মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এমন প্রশ্নে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
তবে বলেন, 'পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন '
ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন ও সেনা মোতায়েন
ভেনেজুয়েলায় কবে নির্বাচন হবে ও দেশটিতে ভবিষ্যতে কীভাবে পথ পরিচালনা করবেন—এমন প্রশ্নেরও উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান রিপাবলিকান এই নেতা।
ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা পাঠানো হবে কি না—এ প্রশ্নেও ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু জানাননি।
তেল দিতে না চাইলে কিংবা রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতি বন্ধ করতে ভেনেজুয়েলা অস্বীকৃতি জানালে কী হবে— এ প্রশ্নও এড়িয়ে যান তিনি।
বলেন, 'আমি আপনাকে এটা বলতে চাই না। কিন্তু তারা আমাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানের সাথে আচরণ করছে। আমরা বর্তমানে সেখানে যে প্রশাসন আছে তার সাথে খুব ভালোভাবেই মিশে যাচ্ছি।'
দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের শেষদিকে ট্রাম্প ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা সফরে যেতে চান বলে জানান।
বলেন, 'আমি মনে করি, একসময় সেটা নিরাপদ হবে।'
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার নেয়ার আগেই কংগ্রেসের কাছে ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একইসঙ্গে জানান, যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির কার্যত নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে।
কলম্বিয়া নিয়ে কী ভাবছেন
নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথোপকথনের শুরুর পর পরই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ফোন আসে।
ওভাল অফিসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পেত্রোর সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ফোনালাপ শুনে কলম্বিয়ায় আপাতত মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়েছে।
একইসঙ্গে ভেনেজুয়েলায় ঢুকে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের ঘটনা ল্যাতিন আমেরিকার বাকি দেশগুলোর নেতাদের একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে, এমনটাও স্পষ্ট বলে জানায় নিউইয়র্ক টাইমস।