কোরবানির ঈদে ফ্যাশন নাকি কমফোর্ট—কোনটা বেছে নেবেন?

শবনম জাবীন চৌধুরী

কোরবানির ঈদের দিনটি কেমন কাটে বলুন তো? সকালে ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি সম্পন্ন করা, তারপর দিনের অনেকটা সময় কেটে যায় কোরবানির মাংস কাটাকাটি, বিতরণ ও রান্নাবান্নার ব্যস্ততায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় কিংবা বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়। কোরবানির ঈদের চিত্রটা কমবেশি সবার ক্ষেত্রেই এমনই হয়ে থাকে।

কোরবানির ঈদে পোশাক নির্বাচনে ফ্যাশনেবল হওয়ার পাশাপাশি কমফোর্টেবল হওয়াটাও জরুরি। ঈদুল ফিতরের দিনের শুরু থেকেই যেমন রঙিন ও ঝলমলে পোশাক পরিধান করা যায়, কোরবানির ঈদে কিন্তু তা সবসময় উপযোগী হয় না। দিনের শুরুতে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক এবং সন্ধ্যার দিকে একটু ঝলমলে পোশাক পরিধান করাই ভালো।

২০২৬ সালের কোরবানি ঈদের ফ্যাশন ট্রেন্ড

২০২৬ সালের কোরবানি ঈদের ফ্যাশন ট্রেন্ডে দেখা মিলছে আমাদের ঐতিহ্য ও আধুনিক স্টাইলের সমন্বয়ে তৈরি পোশাকের। নমনীয় ও প্রশান্তিদায়ক রঙের সিম্পল, আরামদায়ক এবং কালচারাল টোনের পোশাক হতে পারে এ বছরের ঈদে আপনার পছন্দ।

বর্তমানে মানুষ এমন ধরনের পোশাককে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা যেমন ভালো মানের ও স্টাইলিশ, তেমনি শুধু ঈদের দিনই নয়, পরবর্তী সময়গুলোতেও আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পরা যায়। এখন অনেক ফ্যাশন ব্র্যান্ডকে ইকো-ফ্রেন্ডলি ফেব্রিক ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দন নানা ধরনের পোশাক তৈরি করতে দেখা যাচ্ছে।

ঈদ ফ্যাশনে যে রঙগুলো এবার প্রাধান্য পাচ্ছে

২০২৬ সালের কোরবানি ঈদে সফট টোন ও ন্যাচারাল রঙগুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে। চোখে দেখলেই মনে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয় এমন সফট শেডের রঙ, যেমন: অলিভ গ্রিন, টেরাকোটা, বাদামি, ধূসর গোলাপি, মিন্ট ও হালকা নীল রঙে ডিজাইনাররা তৈরি করেছেন দারুণ সব পোশাক। গরম আবহাওয়ায় এসব রঙ এনে দেয় একটি ফ্রেশ লুক।

ঈদ ফ্যাশন
ছবি: আদনান রহমান

ফ্যাশন ও কমফোর্টকে যেভাবে ব্লেন্ড করা যায়

কোরবানি ঈদের দিন ঈদের নামাজের পর থেকে প্রায় সারাদিনই নানা কাজের ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটে। তাই পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন আরামদায়ক হওয়া জরুরি, অন্যদিকে তাতে ঈদ উৎসবের ছোঁয়াও থাকা চাই। বর্তমানে যেহেতু গ্রীষ্মকাল চলছে এবং দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাংস নিয়ে ব্যস্ততা থাকে, তাই আরামদায়ক ফেব্রিক, যেমন: কটন, লন ও হালকা লিনেনের কাপড় বেছে নেওয়াই ভালো।

এরপর সন্ধ্যায় বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে ভেলভেট বা সিল্কের পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে, যা আপনাকে গর্জিয়াস লুক দেবে।

যেহেতু বর্তমানে আবহাওয়া বেশ গরম, তাই সকালে ঈদের নামাজে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আরামদায়ক পাঞ্জাবি পরলে স্বস্তি পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নামাজ শেষে ফিরে এসে কোরবানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও বেশ সুবিধাজনক হবে।

কোন কাপড়ে কেমন স্বস্তি পাওয়া যায়

লন: গ্রীষ্মের দিনে যদি ঈদ হয়, তাহলে লনের কোনো বিকল্প নেই। এটি খুবই হালকা ও আরামদায়ক ফেব্রিক এবং বিভিন্ন রঙ, প্যাটার্ন ও ডিজাইনে পাওয়া যায়।

সিল্ক: মসৃণ ও আরামদায়ক এই কাপড়টি খুবই মার্জিত ও আভিজাত্যপূর্ণ লুক দেয়। বিভিন্ন স্টাইলে এই ফেব্রিক পাওয়া যায়।

সিফন: এটি নরম ও হালকা ফেব্রিক, যা ক্যাজুয়াল ও ফর্মাল দুইভাবেই পরা যায়। ঈদের জন্য এটি খুবই জনপ্রিয় ফেব্রিক এবং এটি দারুণ লুক দেয়।

সুতি: সুতি কাপড়ের স্বস্তি ও আরাম নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। সারাদিন যেকোনো আবহাওয়ায় পরার জন্য এটি চমৎকার ফেব্রিক। দারুণ ডিজাইনের পোশাক ও মানানসই গহনার সঙ্গে পরলে এটিও যেকোনো উৎসবে দারুণ মানিয়ে যায়।

জর্জেট: সিফনের চেয়ে সামান্য ভারী কাপড় হলো জর্জেট। তবে এটিও বেশ নরম ফেব্রিক। ঈদ উৎসবে ফর্মাল ও ক্যাজুয়াল—দুই ধরনের লুকের জন্যই এই ফেব্রিকের পোশাক নির্বাচন করা যেতে পারে। জর্জেট কাপড়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের এমব্রয়ডারি করা পোশাকগুলো ঈদে বিশেষ নজর কাড়ে।

ভেলভেট: এই ফেব্রিকের ভারী টেক্সচারের কারণে গ্রীষ্মকালের ঈদের দিনের পোশাক হিসেবে ভেলভেটকে খুব একটা প্রাধান্য দেওয়া হয় না। তবে সন্ধ্যার অনুষ্ঠান বা আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলে ঈদ উদযাপনের জন্য ভেলভেটের পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে।