আইইএলটিএসের জন্য কোচিং কি সত্যিই প্রয়োজন?
বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, আইইএলটিএস দিতে হবে। এরপরই অনেকের মাথায় আসে আরেকটি প্রশ্ন, কোচিংয়ে ভর্তি হবো কি না? পরিচিত কেউ হয়তো বলছেন, ভালো স্কোর করতে হলে কোচিং করতেই হবে। আবার ইউটিউব বা ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে, কেউ সম্পূর্ণ নিজের প্রস্তুতিতেই ভালো ব্যান্ড স্কোর পেয়েছেন। এত ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে নতুন পরীক্ষার্থীর দ্বিধায় পড়া অস্বাভাবিক নয়।
বাংলাদেশে আইইএলটিএস প্রস্তুতির জন্য অসংখ্য কোচিং সেন্টার রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে ভিডিও, মক টেস্ট, নমুনা প্রশ্নসহ নানা ধরনের উপকরণ। তাই আইইএলটিএসের প্রস্তুতি মানেই কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া, এমনটা আর বলা যায় না। তবে সবার শেখার ধরনও এক নয়। কারও জন্য কোচিং কাজে আসতে পারে, আবার কেউ নিজের মতো প্রস্তুতি নিয়েই ভালো করতে পারেন।
প্রথমে বুঝতে হবে পরীক্ষার ধরন
ইংরেজিতে ভালো হলেই আইইএলটিএসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো স্কোর আসবে, বিষয়টি এমন নয়। পরীক্ষার চারটি অংশ—লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিংয়ের ধরন আলাদা। প্রতিটি অংশের প্রশ্ন, সময়সীমা এবং মূল্যায়নের পদ্ধতিও বুঝতে হয়।
প্রথমবার আইইএলটিএস দিতে যাওয়া কারও কাছে শুরুতে পুরো বিষয়টি কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। কোন অংশে কত সময় পাওয়া যাবে, রাইটিং টাস্ক ১ ও টাস্ক ২-তে কী করতে হবে কিংবা স্পিকিং পরীক্ষা কীভাবে হয়—এসব বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। কোচিংয়ের একটি সুবিধা হলো, শুরুতেই পরীক্ষার কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
তবে এই তথ্য জানার জন্য কোচিংই একমাত্র জায়গা নয়। আইইএলটিএসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটসহ নির্ভরযোগ্য অনলাইন উৎসেও পরীক্ষার কাঠামো, নমুনা প্রশ্ন এবং প্রস্তুতির উপকরণ পাওয়া যায়।
নিজের দুর্বলতা বুঝতে পারছেন তো?
নিজে প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিজের ভুল নিজে শনাক্ত করা। রিডিং বা লিসেনিংয়ের উত্তর মিলিয়ে দেখা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু রাইটিং এবং স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি এত সহজ নয়। একটি রচনা লিখে সেটি নিজের কাছে ভালো মনে হতেই পারে। কিন্তু বক্তব্য কতটা পরিষ্কার, শব্দের ব্যবহার কেমন কিংবা লেখার গঠন ঠিক আছে কি না, এসব জায়গায় সমস্যা থেকে যেতে পারে। একইভাবে স্পিকিংয়ের সময় উচ্চারণ, সাবলীলতা বা উত্তর সাজানোর ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা নিজের পক্ষে সব সময় বোঝা সম্ভব হয় না।
ভালো একজন প্রশিক্ষক এখানে কাজে আসতে পারেন। তিনি শুধু ভুল ধরিয়ে না দিয়ে কেন ভুল হচ্ছে এবং সেটি কীভাবে ঠিক করা যায়, সেটিও দেখাতে পারেন।
নিয়মিত পড়তে না পারলে কোচিং কাজে লাগতে পারে
বই কিনেছেন, ইউটিউবে কয়েকটি ভিডিওও দেখেছেন, কিন্তু নিয়মিত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। আজ পড়বেন ভেবে কাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া কিংবা কয়েক দিন পড়ার পর দীর্ঘ বিরতি নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে।
কোচিংয়ের নির্দিষ্ট ক্লাস, হোমওয়ার্ক ও মক টেস্ট থাকলে একটি রুটিন তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের একা পড়ার অভ্যাস নেই, তাদের জন্য এই নির্দিষ্ট সময়সূচি কাজে দিতে পারে। অন্যদিকে যিনি নিজেই পরিকল্পনা করে নিয়মিত পড়তে পারেন, তার জন্য একই সুবিধা হয়তো ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
কোচিং করলেই ভালো ব্যান্ড নিশ্চিত নয়
এখানেই একটি ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি। কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া ভালো আইইএলটিএস স্কোরের নিশ্চয়তা দেয় না। সপ্তাহে কয়েক দিন ক্লাস করে বাড়িতে কোনো চর্চা না করলে শুধু কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
আইইএলটিএস মূলত ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ইংরেজি পড়া, শোনা, লেখা ও বলার অভ্যাস দুর্বল হলে কয়েক সপ্তাহের কোর্সেই সব ঘাটতি পূরণ হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কোচিং প্রস্তুতির পথ দেখাতে পারে, কিন্তু সেই পথে নিয়মিত চলার কাজটি পরীক্ষার্থীকেই করতে হয়।
নিজে প্রস্তুতি নেওয়াও সম্ভব
ইংরেজিতে মোটামুটি স্বচ্ছন্দ, পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে ধারণা আছে এবং নিজে নিয়ম মেনে পড়তে পারেন—এমন পরীক্ষার্থীর জন্য কোচিং ছাড়া প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে শুরুতেই একটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান বোঝা যেতে পারে। কোন অংশে বেশি সমস্যা হচ্ছে, সেটি চিহ্নিত করে সেই জায়গায় বেশি সময় দেওয়া যায়। প্রতিদিন চারটি অংশই অনুশীলন করতে হবে, এমনও নয়। নিজের দুর্বলতার ভিত্তিতে সময় ভাগ করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
তবে অনলাইনে আইইএলটিএস নিয়ে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট থাকায় কোনটি নির্ভরযোগ্য, সেটিও যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ‘নিশ্চিত ব্যান্ড ৮ পাওয়ার কৌশল’ ধরনের দাবির চেয়ে অফিশিয়াল ও প্রতিষ্ঠিত উৎসের উপকরণে ভরসা করা ভালো।
নিজেকে বোঝা জরুরি
তাহলে আইইএলটিএসের জন্য কোচিং কি সত্যিই প্রয়োজন? উত্তরটি নির্ভর করছে পরীক্ষার্থীর ওপর।
যার পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, নিজের পড়ার রুটিন ধরে রাখতে সমস্যা হয় কিংবা রাইটিং ও স্পিকিংয়ে নিয়মিত ফিডব্যাক প্রয়োজন, তার জন্য ভালো মানের কোচিং সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে যিনি নিজে পরিকল্পনা করতে পারেন, ইংরেজির ভিত্তি ভালো এবং প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য উপকরণ খুঁজে নিতে জানেন, তার জন্য কোচিং বাধ্যতামূলক নয়। তাই অন্য কেউ কোচিং করে ভালো স্কোর করেছেন বা কোচিং ছাড়াই সফল হয়েছেন, শুধু সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের অবস্থাটা আগে বোঝা জরুরি।






